| বঙ্গাব্দ

৪ দশকে সর্বনিম্ন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত, তবুও বিশ্ববাজারে দাম কমছে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-06-2026 ইং
  • 4100 বার পঠিত
৪ দশকে সর্বনিম্ন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত, তবুও বিশ্ববাজারে দাম কমছে
ছবির ক্যাপশন: ৪ দশকে সর্বনিম্ন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত

মজুত ফাঁকা করে ১৭ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ল ওয়াশিংটন; দোহা আলোচনা ও চীনের মন্দায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নামল ৭২ ডলারে

আন্তর্জাতিক ও জ্বালানি বাণিজ্য ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক রাজনীতির চরম অস্থিরতা ও দীর্ঘদিনের ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তীব্র চাপ তৈরি হলেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের (Crude Oil) দাম লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক তেলের মজুত গত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্বাভাবিক অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ার কথা থাকলেও, ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণে বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টোটা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—একদিকে যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, অন্যদিকে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য পরোক্ষ আলোচনাকে ঘিরে বৈশ্বিক বাজারে তৈরি হয়েছে একটি সতর্ক আশাবাদ। মূলত এই দুই কারণেই তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে নিম্নমুখী।

১৯৮৩ সালের পর আমেরিকার সর্বনিম্ন পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের (DOE) সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ (SPR) থেকে নতুন করে আরও ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার মোট কৌশলগত মজুত কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে। মার্কিন জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এটি ১৯৮৩ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন মজুতের রেকর্ড।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসপিআর থেকে ধাপে ধাপে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তারই চূড়ান্ত রূপ।

শুধু কৌশলগত মজুতই নয়, ব্যাপক আন্তর্জাতিক রপ্তানি এবং মার্কিন রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোর উচ্চ চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুতও দ্রুত খালি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত—দুই ধরনের রিজার্ভ মিলিয়ে আমেরিকার মোট তেল মজুত ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমে গত ১৯ জুন পর্যন্ত ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে; যা ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।

ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুড ৭২ ও ডব্লিউটিআই ৭০ ডলার

আমেরিকার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমলেও মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো তেলের বৈশ্বিক বাজার বড় পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী, আগস্ট ডেলিভারির বিশ্বখ্যাত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (Brent Crude)-এর দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত মাসের সমাপনী দামের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মে মাসের শেষের তুলনায় ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

মূল্যপতনের প্রধান কারণসমূহ: কেসিএম ট্রেডের (KCM Trade) প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "বাজার এখনো পুরোপুরি শতভাগ স্বস্তিতে বা ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। তবে কাতারের দোহায় মার্কিন প্রতিনিধি ও ইরানি কারিগরি দলের পরোক্ষ আলোচনা এবং ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক আশাবাদ বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"

এর পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনের অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতে মুনাফার ধীরগতি এবং দুর্বল ভোক্তা চাহিদাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে। বেইজিংয়ের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ায় তেলের দাম হু হু করে কমছে।

এমন যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপেক (OPEC) প্লাস উৎপাদক দেশগুলো তেল ও এলএনজি (LNG) রপ্তানি পুরোপুরি সচল রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কার্গো জাহাজে হামলা এবং নতুন করে সামরিক ড্রোন স্ট্রাইক হলেও গত সপ্তাহে ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার ও জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক অনেকটাই দূর করেছে।

এক নজরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের বর্তমান সমীকরণ (জুন, ২০২৬)

  • আমেরিকার রেকর্ড: যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ কমে ৩২.৫৭ কোটি ব্যারেলে ঠেকেছে (১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন)।

  • বাজার দর: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড কমে ৭২.৫১ ডলার এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেল ৭০.৩৬ ডলারে নেমেছে।

  • দোহা ফ্যাক্টর: দোহায় মার্কিন-ইরান ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতি ও হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হওয়ার আশাই মূল দাম কমার কারণ।

  • চীন সংকট: বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক চীনের দুর্বল চাহিদার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ।

  • জাহাজ চলাচল: যুদ্ধ ও উত্তেজনা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বর্তমানে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে

স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ও জ্বালানি বাণিজ্য বিভাগ

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই তেলের প্রতি ঘণ্টার লাইভ দাম (Crude Oil Live Price), ওপেক (OPEC) ভুক্ত দেশগুলোর দৈনিক তেল উৎপাদন কোটা, সিঙ্গাপুর ও হরমুজ প্রণালীর নৌ-নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency