| বঙ্গাব্দ

গর্ভাবস্থায় বাদাম ও বীজ: মায়ের খাদ্য নয়, সন্তানের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-07-2025 ইং
  • 4518241 বার পঠিত
গর্ভাবস্থায় বাদাম ও বীজ: মায়ের খাদ্য নয়, সন্তানের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ
ছবির ক্যাপশন: গর্ভাবস্থায় বাদাম ও বীজ

গর্ভাবস্থায় বাদাম ও বীজ: মায়ের খাদ্য নয়, সন্তানের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন | প্রকাশকাল: ২০২৫ | সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


গর্ভাবস্থায় একজন নারীর খাদ্যাভ্যাস কেবল তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়—তা হয়ে দাঁড়ায় অনাগত সন্তানের সুস্থতা ও বিকাশের ভিত্তি।
এ সময় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর উপাদানের সংযোজন জরুরি হয়ে পড়ে, বিশেষ করে বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ, যা এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও সুপার ফুড হিসেবে বিবেচনা করছেন।

পুষ্টিবিদরা কী বলছেন?

স্বাস্থ্য বিশারদদের মতে, বাদাম ও বীজে থাকে এমন কিছু উপাদান যা গর্ভকালীন জটিলতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এসব খাবারে রয়েছে—স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ।

বিশেষ করে ফোলেট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রনের মতো উপাদান গর্ভবতী মায়ের জন্য অপরিহার্য।
চিকিৎসকদের মতে, এগুলো শিশুর মস্তিষ্ক গঠন, হাড়ের শক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।


কোন কোন বাদাম ও বীজ সবচেয়ে উপকারী?

বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • আখরোট ও পেস্তা: স্নায়ু গঠনে সহায়ক

  • তিসি, চিয়া ও কুমড়ার বীজ: ফাইবার, আয়রন, জিংক ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ

  • বাদাম: শক্তি বাড়ায়, হজমে সহায়ক, গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে

এসব উপাদান কেবল গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিই করে না, বরং গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করে।


কখন খাবেন বাদাম ও বীজ?

পুষ্টিবিদদের সুপারিশ অনুযায়ী—

  • সকালে খালি পেটে বা নাস্তার পরে ভেজানো বাদাম খাওয়া সবচেয়ে উপকারী

  • অতিরিক্ত ক্ষুধার সময়ে একমুঠো মিশ্র বাদাম কিংবা হালকা ভাজা বীজ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ও শর্করার মাত্রা সঠিক রাখতে সাহায্য করে

  • চিয়া বা তিসি বীজ খেলে তা ভিজিয়ে খাওয়াই ভালো; শুকনো খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে, বিশেষ করে রাতে

তবে খাবারের পরপর বাদাম না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে থাকা চর্বি হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।


দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা কী বলে?

১৯৫০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে।
বিশেষ করে ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গর্ভবতী নারীদের জন্য খাদ্যতালিকায় বাদাম ও বীজ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২৩ সালে জানায়,

“ওমেগা-৩ ও প্রাকৃতিক আয়রনযুক্ত খাবার গর্ভকালীন জটিলতা হ্রাস ও শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”


চিকিৎসকদের পরামর্শ

চিকিৎসকরা মনে করেন, অনেক গর্ভবতী নারীই এখনো খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও শাকসবজির পাশাপাশি বাদাম ও বীজকে তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ দৈনিক মাত্র ৩০–৫০ গ্রাম বাদাম ও বীজ শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে যাদের অ্যালার্জি বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাদাম বা বীজ খাওয়া উচিত।


উপসংহার

গর্ভাবস্থায় খাবারের প্রতিটি উপাদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি গড়ে দেয়।
তাই বাদাম ও বীজ কেবল বাড়তি খাবার নয়, বরং এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার একটি অব্যর্থ পুষ্টিকৌশল।
এই অভ্যাস শুধু মাতৃত্বকালীন জটিলতা প্রতিরোধে নয়, বরং শিশুর প্রথম জীবনের জন্যও এক প্রকার পুঁজি।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency