প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২৯ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
সূত্র: নীলা ইস্রাফিলের ফেসবুক পোস্ট ও এনসিপি বিবৃতি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন নীলা ইস্রাফিল। সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে তিনি জানান,
“আপনাদের অপরাধ, অনাচার আর লিপ্সার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই আমি আপনাদের কেউ না?”
এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। কারণ, নীলা দীর্ঘদিন ধরেই এনসিপির পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দলটির প্রকাশ্য কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন,
“নীলা ইস্রাফিল এনসিপির কেউ নয়। তবে সে নাগরিক কমিটিতে ছিল।”
এই মন্তব্যের পরই নীলা পাল্টা প্রশ্ন করেন,
“আপনারা এত দিন আমাকে কিসের ভিত্তিতে ব্যবহার করেছেন?”
তার এই প্রশ্ন যেন একসঙ্গে জর্জরিত করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলের ভেতরের ব্যবস্থাপনা ও মূল্যবোধের প্রশ্নকে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি বরাবরই দুই রকম ধাঁচে দেখানো হয়েছে—একদিকে সামনে রেখে ক্ষমতা অর্জনের মুখপাত্র, অন্যদিকে ভিন্নমত হলেই বিচ্ছিন্নতা। এই সংস্কৃতি নতুন নয়। নিচে সময়কালভিত্তিক কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো—
| সাল | ঘটনা | বিশ্লেষণ |
|---|---|---|
| ১৯৬৯ | পাকিস্তানবিরোধী গণআন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নে নারীর অংশগ্রহণ | নারীর ভূমিকা স্বীকৃত হলেও নেতৃত্বে স্থান পায়নি |
| ১৯৭১ | মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা | বিজয়ের পর নারী যোদ্ধারা প্রায় উপেক্ষিত |
| ১৯৮৩ | নারীনেত্রী নাসিমা আক্তারের ছাত্ররাজনীতিতে উত্থান | পরে তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ‘মতানৈক্য’-র অজুহাতে |
| ২০০১–২০০৬ | দুই নারী প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দলের ভেতরে নারী নেতৃত্ব দুর্বল | |
| ২০২২ | কয়েকটি প্রগতিশীল দলের নারী সাংগঠকরা স্বেচ্ছায় সরে যান দলীয় ‘ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলে | |
| ২০২৫ | নীলা ইস্রাফিলের পদত্যাগ ও বক্তব্য | ইতিহাসের ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন |
নীলা অভিযোগ করেন,
“আমার কণ্ঠ যখন আপনাদের পক্ষে ছিল, তখন ‘আমাদের নেত্রী’, ‘আমাদের শক্তি’ বলে গলা ফাটাতেন। এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমি অপরিচিত?”
তিনি আরও বলেন,
“দল করেন নাকি কেবল নারীকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলার কারখানা চালান?”
এই অভিযোগ একদিকে যেমন এনসিপির রাজনৈতিক আস্থার জায়গায় আঘাত হানে, অন্যদিকে বৃহত্তর রাজনীতিতে নারী ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে।
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ভিন্নমতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কি গঠনমূলক, নাকি প্রতিহিংসামূলক?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান বলেন,
“বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এখনো নারীর স্বাধীন অবস্থান মেনে নিতে চায় না। তারা ‘প্রয়োজন’ অনুযায়ী ব্যবহার করে, ‘অপ্রয়োজন’ হলে মুছে দেয়।”
নীলার পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন—একটি নতুন ভাবনার দল (এনসিপি) যদি এত দ্রুত নারীকে অস্বীকার করে, তাহলে তাদের নৈতিক অবস্থান কোথায়?
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিখেছেন,
“একটি দল যদি একজন নারী সদস্যের ন্যায়ভিত্তিক প্রতিবাদকে গ্রহণ করতে না পারে, তবে সেই দলের গণতন্ত্রচর্চার দাবি মুখস্থ বচনের বেশি কিছু নয়।”
নীলা তার বক্তব্যে এক জায়গায় বলেন,
“আমি কারো পরিচয়ে নই, আমি আমার ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো একজন মানুষ। আমাকে অস্বীকার করে সত্যকে অস্বীকার করা যাবে না।”
এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়—এটি নারীর আত্মপরিচয়ের লড়াই, রাজনৈতিক ব্যবস্থার জবাবদিহির দাবি এবং জনমানসে প্রশ্ন জাগানোর আহ্বান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নীলা ইস্রাফিলের ফেসবুক পোস্ট, ২৮ জুলাই ২০২৫
এনসিপি বিবৃতি, যুগান্তর, ২৯ জুলাই ২০২৫
“নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট”, ড. রাবেয়া সুলতানা
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |