| বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ডের সংক্রান উৎসব ২০২৫: জলকেলি, আনন্দ ও সংস্কৃতির মিলন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-04-2025 ইং
  • 3400587 বার পঠিত
থাইল্যান্ডের সংক্রান উৎসব ২০২৫: জলকেলি, আনন্দ ও সংস্কৃতির মিলন
ছবির ক্যাপশন: থাইল্যান্ডের সংক্রান উৎসব ২০২৫: জলকেলি, আনন্দ ও সংস্কৃতির মিলন

নতুন বছরের প্রথম দিনেই থাইল্যান্ডে শুরু হয় এক অদ্ভুত এবং রঙিন উৎসব—সংক্রান উৎসব, যা মূলত একটি জলকেলি উৎসব হিসেবে পরিচিত। এই উৎসবটি থাই ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন, এবং এটি থাইল্যান্ডের সংস্কৃতির একটি গভীর অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, থাই জনগণের কাছে এটি একধরনের পরিশুদ্ধি, নবায়ন এবং জীবনের সঙ্গতি পুনরুদ্ধারের প্রতীক।

থাইল্যান্ডে সংক্রান উৎসব: ঐতিহ্য ও জলকেলির আনন্দ

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল রোববার, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক, বিশেষভাবে খাওসান সড়ক, এই উৎসবের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে। এই দিনেই থাই জনগণ উদযাপন শুরু করে তাদের নববর্ষের উৎসব, যার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো বিশাল জলকেলি। ব্যাংককসহ অন্যান্য শহরগুলিতেও এই জলকেলি উৎসব পালিত হয়, তবে খাওসান সড়ক ছিল সবচেয়ে জমজমাট এবং দর্শকদের জন্য একধরনের অভিজ্ঞতা।

এ বছরের উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন হাজার হাজার পর্যটক। তীব্র গরম থাকা সত্ত্বেও উৎসবের আনন্দে অংশগ্রহণকারীরা মোটেও পিছিয়ে থাকেননি। সড়কে শত শত মানুষ চোখে গগলস এবং হাতে গ্লাভস পরে একে অপরকে পানি ছুঁড়ে মারতে শুরু করেন। কিছু মানুষ তো বিশেষভাবে ওয়াটার গানও ব্যবহার করছিল। জলকেলির পাশাপাশি, উৎসবে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে পুরো পরিবেশ ছিল প্রাণবন্ত। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বয়সী ছিলেন—ছোট থেকে বড়, সব বয়সের মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে।

গরমের মধ্যে উৎসবের আনন্দ

থাইল্যান্ডে এপ্রিল মাস সাধারণত অত্যন্ত গরম থাকে। এবছরও তীব্র গরম চলছিল, তবে এই তীব্র গরমও উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ কমাতে পারেনি। এমনকি গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকেই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন—গগলস পরিধান করা এবং গ্লাভস পরে সড়কে নামা ছিল সাধারণ দৃশ্য। বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীও পানির মধ্য দিয়ে নিজেদের ঠাণ্ডা করার জন্য উৎসবের স্রোতে মেতে উঠেছিল।

সংস্কৃতির একটি অংশ

থাই জনগণের কাছে এই জলকেলি উৎসবের মর্ম হলো—এটি একটি সাংস্কৃতিক আচার, যা পরিশুদ্ধি ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়। এমনকি অনেকে বিশ্বাস করেন যে, পানির ছিটানো বা ছোড়া এক ধরনের পাপ মোচন এবং এটি একজনের জীবনকে সতেজ ও নবীন করে তোলে। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ-বেদনা এবং অসুখ-অসুবিধাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে সতেজ মন এবং শরীর নিয়ে স্বাগত জানানোর একটা উপায় এই জলকেলি উৎসব।

এছাড়া, থাই সংস্কৃতির মধ্যে একে অন্যকে পানি ছুড়ে দেওয়ার অর্থ হলো অপরকে শুভকামনা জানানো এবং সম্পর্কের মধ্যে নতুন জীবন আনার প্রতীক। উৎসবে যোগদানকারী প্রত্যেকেই যেন একে অপরকে আনন্দ এবং শুভেচ্ছার বার্তা জানাচ্ছিল। স্থানীয়দের পাশাপাশি, বিদেশি পর্যটকরাও উৎসবে নিজেদের মেতে উঠেছিলেন, তাদের হাসি এবং আনন্দও ছিল একেবারে বাস্তবিক।

শিশুদেরও ছিল উপস্থিতি

এই উৎসবে শিশুদেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। বড়দের সাথে সাথে ছোটরাও পানির খেলায় অংশগ্রহণ করছিল। স্থানীয়রা মনে করেন, শিশুদের এই উৎসবে অংশগ্রহণ তাদের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে, এবং এই দিনটিকে নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে স্বীকার করা হয়। এই জলকেলির মাধ্যমে থাইরা তাদের সম্পর্কগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং সবাইকে একত্রে শাদী, পরিবার ও সামাজিক বন্ধনকে উদযাপন করার সুযোগ দেয়।

স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে পর্যটকদের সংযোগ

বিশেষভাবে, থাইল্যান্ডের এই জলকেলি উৎসব পর্যটকদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। তারা কেবল উৎসবের অংশীদারই হন না, বরং থাইল্যান্ডের সংস্কৃতির গভীরে প্রবেশ করেন। এটি শুধু একটি জলকেলি খেলা নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা যেখানে সবাই একে অপরকে মিষ্টি হাসি, পানি এবং ভালোবাসা দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে।

নববর্ষের আনন্দ

এই উৎসবটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এটি থাই নববর্ষের একটি অংশ। সংক্রান মানে "চলাচল" বা "পদক্ষেপ পরিবর্তন" এবং এটি থাইল্যান্ডে বছরের শেষ দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিনের উৎসব হিসেবে পালিত হয়। একে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়, তবে জলকেলি এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ।

থাইল্যান্ডের বাইরে থেকেও অনেকে সংক্রান উৎসবের অংশ হতে আসে, এবং তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। নববর্ষের এই শুভ দিনকে উদ্যাপন করতে বিশ্বব্যাপী থাইরা বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করে, যার মধ্যে জলকেলি অন্যতম।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency