নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫ — “বিগত ১৫ বছর ধরে টেলিকম খাত ছিল রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিবাদের জালে জর্জরিত। এখন সেই জঞ্জাল সরিয়ে যুগোপযোগী ও প্রজন্মবান্ধব নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।” — শনিবার (১২ জুলাই) এক গোলটেবিল বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং লাইসেন্সিং নীতি সংস্কার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “নতুন নীতিমালার মাধ্যমে শুধু টেলিকম নয়, গোটা ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের গঠনপুনর্গঠন হচ্ছে। করমুক্ত সুবিধা, প্রযুক্তি নিরপেক্ষ লাইসেন্সিং ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “নতুন প্রজন্মের চাহিদা পূরণে শুধু কানেক্টিভিটি নয়, জেনারেশন সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন প্রয়োজন। এ কারণে নীতিমালাকে শুধুই নির্দেশিকা নয়, বরং বিবরণমূলক (explanatory policy) করা হচ্ছে।”
তিনি যোগ করেন, “নীতিমালা তৈরির সময় কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জাতীয় স্বার্থে তা সহ্য করতে হবে। বিগত সময়ের ‘টোল কালেক্টর’ টাইপ লাইসেন্সগুলো বাতিল করা হবে। আমরা আর ভুঁইফোঁড় অপারেটর চাই না।”
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটবের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, “দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৬.৫ কোটি মানুষ থাকলেও প্রায় ৯ কোটি মানুষ এখনো কানেক্টিভিটির বাইরে। ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিকাশ হচ্ছে, কিন্তু বিনিয়োগ পরিবেশ প্রতিযোগিতামূলক নয়।”
তিনি বলেন, “নতুন লাইসেন্স কাঠামো প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ হওয়ায় ভয়েস, ডেটা, ভ্যাস, ওটিটি — সব এক লাইসেন্সেই চালানো যাবে। কিন্তু শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ না রাখলে গতি কমে যাবে।”
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. জহুরুল ইসলাম
“এই পলিসি অন্তত ১৫ বছরের জন্য খাতটিকে স্থিতিশীলতা দেবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী উভয়ই আশ্বস্ত হবেন।”
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী
“পেশিশক্তিনির্ভর ব্যবসা আমরা আর দেখতে চাই না। ৯ কোটির বেশি মানুষ এখনো অফলাইনে। সেবা ব্যবহারে উদ্ভাবন ও দায়িত্ববোধ জরুরি।”
বিশ্বব্যাংক পরামর্শক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ
“প্রপোজড নীতিমালা সর্বশেষ ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও অংশগ্রহণমূলক। তবে লাইসেন্স ডিসকন্টিনিউ হওয়ার পরবর্তী করণীয় স্পষ্ট করা জরুরি।”
ফিকি নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির
“বিনিয়োগের জন্য কনসিস্টেন্সি, ক্যাপাসিটি ও কো-অর্ডিনেশন দরকার। প্রতি বছর মোবাইল অপারেটররা ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে।”
আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম
“আইএসপিরা ৭০% কানেক্টিভিটি সার্ভিস দিচ্ছে, তবুও তাদের ওপর ১৫% কর চাপানো হয়েছে। অপারেটরদের বাজার শেয়ার ৩৫% হলেও তারা করমুক্ত। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়তে হবে।”
ফাইবার অ্যাট হোম সিআইও সুমন আহমেদ সাবির
“গত ৭ বছরে এই খাতে কত বিনিয়োগ এসেছে, সেটির হিসাব প্রয়োজন। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ খরচ যৌক্তিক হওয়া জরুরি।”
গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
ইয়াসির আজমান, সিইও, গ্রামীণফোন
রিয়াজ রশীদ, ভারপ্রাপ্ত সিইও, রবি
ইওহান বুসে, সিইও, বাংলালিংক
নুরুল মাবুদ, এমডি, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড
তাঁরা নতুন নীতিমালার প্রস্তাবিত কাঠামোকে স্বাগত জানান, তবে নীতির বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নিয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেন।
এক লাইসেন্সে মাল্টি-সার্ভিস (ভয়েস + ডেটা + ওটিটি)
প্রযুক্তি নিরপেক্ষ লাইসেন্সিং
পুরোনো ‘টোল কালেক্টর’ লাইসেন্স বাতিল
KPIs ও লাইসেন্স অবলিগেশন অনুসারে অপারেটর অনুমোদন
বিদেশি বিনিয়োগে কিছু সীমিত মুক্ততা
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে কর কাঠামোর সংস্কার
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |