| বঙ্গাব্দ

২০১৮ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট ভরার নির্দেশনা: সাবেক আইজিপির জবানবন্দি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-09-2025 ইং
  • 4077539 বার পঠিত
২০১৮ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট ভরার নির্দেশনা: সাবেক আইজিপির জবানবন্দি
ছবির ক্যাপশন: সাবেক আইজিপির জবানবন্দি

২০১৮ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট ভরার নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি: ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি

প্রতিবেদক

বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্সে ভোট ভরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে আদালতে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জবানবন্দি দেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি জানান, ২০১৮ নির্বাচনের আগের রাতে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী সরাসরি শেখ হাসিনাকে ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা

মামুন তার জবানবন্দিতে আরও জানান, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া এবং ব্লক রেইড চালানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এসব নির্দেশনা এসেছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই। সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডিবির হারুন মারণাস্ত্র ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

গোপন বন্দিশালা

সাবেক আইজিপি বলেন, র‍্যাব-১-এ টিএফআই নামে একটি গোপন বন্দিশালা ছিল। একই ধরনের সেল অন্যান্য ইউনিটেও পরিচালিত হতো। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকারবিরোধীদের এখানে আটক করা হতো। আর আয়নাঘরে আটক ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটানো হতো র‍্যাবের অপারেশন ও গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সম্পৃক্ততা

মামুন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই এসব অপারেশনের নির্দেশনা আসত। কখনো নির্দেশ দিতেন তারেক সিদ্দিকী। সব কার্যক্রম রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হতো।

রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত

চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং সত্য উন্মোচন করতে চান। এ বছরের ২৪ মার্চ তিনি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

প্রেক্ষাপট

এর আগে শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবার, চিকিৎসকসহ ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশন আশা করছে, চলতি মাসেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে।

এই জবানবন্দি বাংলাদেশের নির্বাচন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করল, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


সূত্র

  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১ এর জবানবন্দি (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)

  2. সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে স্বীকারোক্তি (২৪ মার্চ ২০২৫)

  3. জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ প্রতিবেদন (২০২৪–২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency