| বঙ্গাব্দ

বাড়ি কিনলেই নাগরিকত্ব: ক্যারিবীয় দ্বীপে মার্কিনদের ভিড়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-07-2025 ইং
  • 3531684 বার পঠিত
বাড়ি কিনলেই নাগরিকত্ব: ক্যারিবীয় দ্বীপে মার্কিনদের ভিড়
ছবির ক্যাপশন: বাড়ি কিনলেই নাগরিকত্ব: ক্যারিবীয় দ্বীপে মার্কিনদের ভিড়

বাড়ি কিনলেই মিলছে পাসপোর্ট: নাগরিকত্ব বিক্রির হিড়িকে উত্তাল ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ

প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোতে বাড়ছে দ্বিতীয় পাসপোর্টের চাহিদা

ক্যারিবীয় অঞ্চলের পাঁচটি দ্বীপ—অ্যান্টিগা ও বারবুডা, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং সেন্ট লুসিয়া—বর্তমানে নতুন এক ব্যবসায়িক জোয়ারে ভাসছে। এখানে শুধু সৈকত বা বিলাসবহুল জীবনের লোভ দেখিয়ে নয়, “বাড়ি কিনলেই নাগরিকত্ব”—এই অফার দিয়ে ধনীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্তত ১৫০টির বেশি দেশে ভিসাবিহীন ভ্রমণসুবিধা, করমুক্ত আর্থিক নীতিমালা, এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বৈধতা—এই সবকিছু মিলিয়ে পাসপোর্ট এখন যেন প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট

মার্কিনরা কেন আগ্রহী হচ্ছে এই নাগরিকত্বে?

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি লাক্সারি লোকেশনস-এর মালিক নাদিয়া ডাইসন জানান, এখন তাদের ৭০% ক্রেতাই নাগরিকত্ব খোঁজেন, যার বড় অংশই মার্কিন নাগরিক।

“আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না, কিন্তু সবাই বলে—‘আমি এমন একটা বাড়ি চাই, যেটার সঙ্গে পাসপোর্টও পাব।’”

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভক্তি, বন্দুক সহিংসতা, ও বৈষম্য—এই সবই দ্বিতীয় পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহের কারণ।

এটি জীবনধারা না লাইফ ইন্স্যুরেন্স?

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর অভিবাসন পরামর্শক ডমিনিক ভোলেক বলেন—

“১০–১৫% মানুষ সত্যিই স্থানান্তরিত হন। বাকিদের জন্য এটি একধরনের ‘লাইফ ইন্স্যুরেন্স’—যদি ঝড় আসে, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।”

আবেদন বেড়েছে ১২ শতাংশ, তৈরি হচ্ছে অফিস

গত এক বছরে সিবিআই আবেদন ১২% বেড়েছে, যেখানে শীর্ষে মার্কিন নাগরিকরা। হেনলির মতে, ২০২০ ও ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচন এই প্রবণতা ত্বরান্বিত করেছে।

“আগে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রাডারেও ছিল না। এখন আটটি বড় শহরে অফিস খুলেছি,”— জানান ভোলেক।

বিতর্কের তীরেও বিদ্ধ নাগরিকত্ব বিক্রি

২০১২ সালে প্রথম যখন অ্যান্টিগা সরকার পাসপোর্ট বিক্রির অনুমোদন দেয়, তখন ব্যাপক বিতর্ক হয়। সড়কে প্রতিবাদ হয়।
“এটা ছিল জাতীয়তাবোধের প্রশ্ন,”—বলেছেন সাবেক স্পিকার জিসেল আইজ্যাক।

সেন্ট ভিনসেন্টের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনসালভেস বলেছিলেন—

“নাগরিকত্ব কোনো বিক্রির পণ্য হতে পারে না।”

আন্তর্জাতিক হুমকি: ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক

ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই পাসপোর্ট স্কিম অর্থপাচার ও কর ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি করছে
ইইউ হুমকি দিয়েছে—

“ভিসাবিহীন প্রবেশাধিকার প্রত্যাহার করা হতে পারে।”

কমিশনের মুখপাত্র বলেন—

“আমরা দেখতে চাই নাগরিকত্ব বিক্রি ইইউ নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে কি না।”

নতুন পদক্ষেপ: কঠোরতা বাড়ানোর পথে দ্বীপগুলো

আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে দ্বীপগুলো কয়েকটি নতুন পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে—

  • আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন

  • বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার

  • প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীদের ঠেকাতে অভিন্ন তথ্য বিনিময়

  • নিয়মিত অডিট

সেন্ট লুসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ জে পিয়ের বলেন—

“আমাদের সিবিআই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান বজায় রাখে।”

লাভ কোথায়? এক বিলিয়ন ডলারের আয়, উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো

ডমিনিকা সরকার জানায়, পাসপোর্ট বিক্রি থেকে তারা এক বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার অর্থ দিয়ে হাসপাতাল ও পেনশন স্কিম চালু হয়েছে।

অ্যান্টিগার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউন বলেন—

“এই অর্থই আমাদের দেউলিয়াত্ব থেকে ফিরিয়ে এনেছে।”

শুধু বাড়ি নয়, নাগরিকত্ব পাওয়ার আরও পথ

  • ডমিনিকায় জাতীয় উন্নয়ন তহবিলে দুই লাখ ডলারের অনুদান

  • সেন্ট কিটসে আড়াই লাখ ডলারে পুরো পরিবারসহ নাগরিকত্ব

  • অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুদানের বিকল্প

উপসংহার

আজকের বিশ্বে নাগরিকত্ব আর শুধু জন্মসূত্রে পাওয়া কিছু নয়—এটি এখন একটি গ্লোবাল পণ্য। ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপগুলো বিশ্বরাজনীতির ভেতর নিজেদের ‘নিরাপদ ঠিকানা’ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—নিরাপত্তার খাতিরে নাগরিকত্ব যদি বিক্রি হয়, তাহলে জাতীয়তার ভবিষ্যৎ কোন পথে?

সূত্র

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency