চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময়কাল নিয়ে বারবার আশ্বস্ত করলেও তা নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়ে আগামীকাল (১৬ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিএনপি।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এই বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হবে—তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে, নাকি আবারও আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বুঝাতে চাই—উনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা যেন নির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন। নির্বাচন কমিশনকে যেন প্রস্তুতির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।”
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অংশ দাবি তুলেছে—ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৫ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখতে হবে। এমন দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম, এবং আরও কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও অস্বস্তি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একটি মন্তব্য—“অনেকেই চান এ সরকার আরও ৫ বছর থাকুক”—তেও বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে পরিস্কারভাবে খণ্ডন করা হয়নি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা ড. ইউনূসকে ৫ বছর রাখার চেষ্টা করছে, তারাই একসময় তাকে নামিয়ে দেবে। এসব তোষণমূলক চিন্তা-ভাবনা তার সব অর্জন মুছে ফেলবে। নির্বাচন ছাড়া সরকার চলতে পারে না।”
বিএনপির অভিযোগ, ড. ইউনূসের চারপাশে কিছু "আওয়ামীপন্থী গোষ্ঠী" লুকিয়ে রয়েছে, যারা তাকে ভুলপথে চালিত করতে পারে। এজন্যই সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করে বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে চায় বিএনপি।
বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি নতুন সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সেই সংস্কারের নামে “আছড়ানো এজেন্ডা বাস্তবায়ন” হতে দেওয়া যাবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা ৩১ দফা দিয়েছি জনগণকে, তার বাইরে কোনো গোপন এজেন্ডায় আমরা নেই।”
১৬ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুপুর ১২টায় ড. ইউনূস ও বিএনপি নেতাদের মধ্যকার বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেবে।
বৈঠকের পরই জানা যাবে—বিএনপি নির্বাচনের রণকৌশল নেবে, নাকি রোডম্যাপ না পেলে আন্দোলন ও কর্মসূচিতে যাবে। এক কথায়, আগামী দিনের রাজনীতির দিক নির্ধারণ করবে এই বৈঠক।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |