প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কারাকাস ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার তেল ও স্বর্ণ সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শাসনামল নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সুইজারল্যান্ডের শুল্ক দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাদুরো সরকার প্রায় ৫২০ কোটি ডলার (৫.২ বিলিয়ন) মূল্যের ১১৩ টন স্বর্ণ সুইজারল্যান্ডে পাচার বা স্থানান্তর করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি মাদুরোর বিরুদ্ধে ওঠা মাদক ও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলোর মধ্যে এই বিশাল স্বর্ণের বাণিজ্যিক যোগসূত্র নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ (SRF) জানিয়েছে, এই স্বর্ণের মূল উৎস ছিল ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (BCV)। রয়টার্সের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, চরম অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে মাদুরো সরকার তাদের স্বর্ণের মজুত ব্যবহার করতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞ রোনা ও’কনেল জানান, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলা একপ্রকার মরিয়া হয়েই স্বর্ণ বিক্রি করেছিল। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের স্বীকৃতি ও পরিশোধনের জন্য সুইজারল্যান্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বর্ণ পরিশোধন কেন্দ্র।
ভেনেজুয়েলার এই সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
১৯০০-১৯৫০: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ভেনেজুয়েলা তাদের বিশাল খনিজ তেলের সন্ধান পায়। ১৯০০ সালের পর থেকে দেশটির রাজনীতিতে খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শক্তির লড়াই শুরু হয়।
শাবেজ থেকে মাদুরো (১৯৯৯-২০২৪): উগো শাবেজ স্বর্ণ ও তেল খনি জাতীয়করণ করেন। তবে ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতা নেওয়ার পর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশটি চরম মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়ে।
২০২৫-২০২৬ (পতন ও গ্রেপ্তার): গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভেনেজুয়েলার ফুয়ের্তা তিউনা সামরিক ঘাঁটিতে এক আকস্মিক অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। বর্তমানে ব্রুকলিন কারাগারে বন্দি মাদুরোর বিচার কাজ চলছে।
সুইজারল্যান্ড সরকার গত সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) মাদুরো এবং তার ৩৬ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নামে থাকা সব সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার কারণে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে সুইজারল্যান্ডে আর কোনো স্বর্ণ রপ্তানি হয়নি। তবে বর্তমানে জব্দ করা সম্পদের পরিমাণ এবং সেই ৫২০ কোটি ডলারের স্বর্ণের সাথে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির জন্য এক নতুন মোড়। রোনা ও’কনেল মনে করেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বড় সত্য হলো—তত দিনে ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের ভান্ডার সম্ভবত একেবারেই ফুরিয়ে গিয়েছিল। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন ফোরামে বলা হচ্ছে, ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো দেশই তাদের রিজার্ভের এত বিশাল সম্পদ এভাবে 'হাতছাড়া' করেনি।
বিশ্লেষণ: ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ স্থানান্তর কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় ছিল না, এটি ছিল একটি সরকারের পতনের পূর্বাভাস। ১৯০০ সাল থেকে যে রাষ্ট্রটি তেলের ওপর দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখত, ২০২৬ সালে এসে তার প্রধান নেতা এখন বিদেশের মাটিতে বিচারের মুখোমুখি। স্বর্ণ পাচারের এই তথ্য প্রমাণ করে যে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে মাদুরো সরকার রাষ্ট্রের শেষ সম্পদটুকুও বাজি ধরেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি এবং মার্কিন আদালতের বিচারই নির্ধারণ করবে ভেনেজুয়েলার লুণ্ঠিত সম্পদ তাদের জনগণ ফিরে পাবে কি না।
সূত্র: * রয়টার্স ও এএফপি।
সুইজারল্যান্ড শুল্ক দপ্তর ও এসআরএফ (SRF)।
ভেনেজুয়েলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্কাইভ।
নিউইয়র্ক টাইমস্ ও আল জাজিরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |