প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের সুযোগ না দিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশে নতুন করে একদলীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে—এমন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টেনে আনেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যেভাবে একটি দল বাংলাদেশকে কুক্ষিগত করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, সেই ধারা থেকে জনগণ মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এখন পালাবদলের নামে আগামী ১৫ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার স্বপ্ন দেখছে, যা নতুন করে ফ্যাসিবাদী শাসনের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছে। নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের হাতে এই মাটি ইজারা দেওয়া হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী। এই বক্তব্যটি প্রকারান্তরে সাম্প্রতিক সময়ে (জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪) স্বৈরতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রেক্ষাপটকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মাওলানা মামুনুল হক আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা হবে ইসলামিক আদর্শ ও ‘জুলাই সনদ’ এর নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
জুলাই সনদ, যা সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে, সেটিকে আইনি ভিত্তি প্রদানের জোর দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামিক বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ হবে জুলাই সনদভিত্তিক বাংলাদেশ।” এই সনদের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফপূর্ণ শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
গণসমাবেশে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি, গণভোট, নির্বাচনকালীন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার’ দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়।
খেলাফত মজলিস কটিয়াদী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তাফাজ্জল হক রাশিদীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন- খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদী, বাইতুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম রুহানী।
এছাড়াও সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হক, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, খেলাফত মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা উসমান গণি, ইসলামী আন্দোলনের কটিয়াদী উপজেলা সভাপতি সুয়েব ভুঁইয়া এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খেলাফত মজলিস উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আল আমিন ও উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বাইজিদ আহম্মেদ।
১. গণসমাবেশের প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ২. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি ৩. জাতীয় দৈনিকসমূহের আর্কাইভ (২০২৫, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |