আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কে এবার নতুন করে ঘি ঢেলেছে পানি বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনা। ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে ভারত অনড় থাকায় এবার সরাসরি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, পানিসংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা কোনোভাবে হুমকির মুখে পড়লে ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না।
গত শনিবার পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে (ARY News) দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
"যখনই আমরা মনে করব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা (যার অন্যতম প্রধান অংশ পানি) হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।"
পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্যটি এমন একটি সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। নয়াদিল্লি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের ওপর সংঘটিত একটি বড় হামলার জের ধরেই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান-সমর্থিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ যতদিন পর্যন্ত কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেবে, ততদিন পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে ভারত।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতের এই অনমনীয় অবস্থানের তীব্র সমালোচনা ও অভিযোগ করে বলেন, ভারত মূলত পানিকে একটি ‘রাজনৈতিক ও সামরিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করছে এবং একতরফাভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। ভারতের এই নদী নিয়ন্ত্রণের কারণে পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে তীব্র পানির অভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সিন্ধু ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে এই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
পাকিস্তানের সরকারি পরিসংখ্যান ও তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণের ফলে সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন প্রধান প্রধান খালে পানির ঘাটতি বর্তমানে তীব্র ও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী:
দাদু ক্যানাল (Dadu Canal): সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানির ঘাটতি দেখা গেছে।
নর্থ ওয়েস্ট ক্যানাল (North West Canal): প্রায় ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ পানির অভাব তৈরি হয়েছে।
রাইস ক্যানাল (Rice Canal): পানির ঘাটতি পৌঁছেছে ৩৮ শতাংশে।
এছাড়া পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সুক্কুর ব্যারেজে (Sukkur Barrage) পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন, কৃষক ও রাজনৈতিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও কৃষি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পানি নিয়ে দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশীর এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তাকে আবারও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
| প্রধান সূচক ও ইস্যু | বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি |
| মূল চুক্তি ও বিরোধ | ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। |
| ভারতের স্থগিতের কারণ | ২০২৫ সালের এপ্রিলে সংঘটিত হামলা এবং পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ। |
| পাকিস্তানের অবস্থান | পানি বন্ধ করাকে ‘যুদ্ধাস্ত্র’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি। |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | পাকিস্তানের সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশ (দাদু ক্যানালে ঘাটতি ৮২%)। |
| তাত্ক্ষণিক প্রভাব | সুক্কুর ব্যারেজে পানির স্তর হ্রাস ও তীব্র অর্থনৈতিক-কৃষি বিপর্যয়। |
আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক: বিডিএস булবুল আহমেদ
ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক, সিন্ধু পানি চুক্তির আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং বিশ্ব রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |