আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং পরমাণু চুক্তির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পরিদর্শনের খবরটি জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের জাতীয় আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য কেবল দুটি স্থাপনা—বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেহরান গবেষণা চুল্লি পরিদর্শনের আইনি অনুমতি রয়েছে, এর বাইরে এক ইঞ্চি জমিও তাদের দেখতে দেওয়া হবে না।
চলতি সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তেহরানের এই কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও পরিদর্শনের পরিধি নিয়ে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইরানের জাতীয় নীতি স্পষ্ট করে বলেন:
"আমরা নিজেরাই দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা বা পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইন পাস করেছি। পাশাপাশি আমাদের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (SNSC)-এরও এই বিষয়ে একটি কঠোর প্রস্তাবনা বা রেজল্যুশন রয়েছে। এই পাস হওয়া আইনের অধীনে, শত্রুপক্ষের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে আইএইএ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কোনোভাবেই প্রবেশের বা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এটাই আমাদের দেশের আইন এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।"
তিনি আরও জানান, ইরানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শনের মাত্রা বা পরিধি ঠিক কতটা হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ধারণ করে দেয় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। তারা যে আইনি রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার বাইরে ইরান বিশ্বমঞ্চে কাউকেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ছাড় দেবে না। গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে পরিদর্শকদের কেবল বুশেহর ও তেহরান চুল্লিতেই প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের ওপর ইরান কঠোরভাবে অটল থাকবে।
ইরানের পরমাণু আলোচনা ও কূটনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে গালিবাফ দেশের ভেতরে থাকা তাঁর রাজনৈতিক সমালোচকদেরও উপযুক্ত জবাব দেন। তিনি বলেন, "যারা ঘরে বসে শুধু সমালোচনা করছেন, তারা কূটনীতি বা যুদ্ধ—কোনোটিতেই দেশকে আজ পর্যন্ত কোনো সাহায্য করতে পারেননি। তবে আমি দেশের স্বার্থে লড়াই ও কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম সারিতে অবিচল রয়েছি।"
ইসলামী বিপ্লবের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির প্রয়াণ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে গালিবাফ এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, "আমাদের শহীদ ইমামের রক্তের প্রকৃত ও চূড়ান্ত প্রতিশোধ হলো পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম) অবমুক্ত করা। আর এই মহান লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের যেকোনো মূল্যে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রক্ষা করতে হবে। শুধু রাজপথে ফাঁকা স্লোগান দিয়ে এই রক্তের বদলা নেওয়া সম্ভব নয়।"
শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পিকার আরও বলেন, "আমাদের বৈশ্বিক শত্রু ক্ষমতার ভাষা ও সামরিক শক্তি ছাড়া দুনিয়ার আর কোনো ভাষা বোঝে না। তাই আমাদের অবশ্যই নিজেদের শক্তির সর্বোচ্চ জায়গা থেকেই তাদের মুখোমুখি হতে হবে।"
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে একটি হাই-ভোল্টেজ আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে কোনো ধরনের মার্কিন অংশগ্রহণ ছাড়াই মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সরাসরি টেবিল বৈঠকে বসে ইরান। সেই বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
পরিদর্শন নাকচ: মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রে আইএইএ-র প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অনুমোদিত স্থাপনা: জাতিসংঘের পরিদর্শকরা কেবল বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেহরান চুল্লি পরিদর্শনের অনুমতি পাবেন।
আইনি কড়াকড়ি: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের রূপরেখার বাইরে কোনো ছাড় দেবে না ইরান।
চূড়ান্ত প্রতিশোধ: খামেনির রক্তের বদলা নিতে লেবাননকে রক্ষা এবং আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্ত করার আহ্বান।
দোহা বৈঠক: যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে দোহা বৈঠকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তেহরানের।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পরমাণু ও ভূরাজনীতি বিভাগ
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) আগামী জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত, বুশেহর ও তেহরান পরমাণু চুল্লির বর্তমান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লাইভ স্ট্যাটাস, কাতারের দোহা বৈঠকের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |