| বঙ্গাব্দ

ওয়ান-স্টপ উইন্ডো ও অস্থায়ী লাইসেন্স চালু করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-06-2026 ইং
  • 2796 বার পঠিত
ওয়ান-স্টপ উইন্ডো ও অস্থায়ী লাইসেন্স চালু করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ভৌত স্থাপনার ১৫ দিনের অনুমোদনে ফায়ার ও পরিবেশের আইনি বাধ্যবাধকতা; প্রাথমিক কাজের জন্য মিলবে ‘অস্থায়ী লাইসেন্স’

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬

দেশে প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার লাইসেন্সিং ও বিভিন্ন দাপ্তরিক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে জোরালোভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীদের যেন একটি লাইসেন্সের জন্য এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বারবার ঘুরতে না হয়, সে জন্য একটি আধুনিক ও কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া এবং এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

ভৌত স্থাপনার অনুমোদন ও অস্থায়ী লাইসেন্স

সাক্ষাৎকার টেবিলে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায়, তা আবেদনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত বা সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের ভারী স্থাপনায় কাঠামোগত নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত সংবেদনশীল বিষয়সহ বিভিন্ন দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখার রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ বাস্তবসম্মতভাবে স্থাপনা পরিদর্শন করেই তবেই চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।

তবে এই আইনি পরিদর্শনের কারণে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকার একটি বিকল্প পথ তৈরি করছে। বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সরকার এখন থেকে ‘অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স’ দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করবে বলে জানান মন্ত্রী। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না আটকে দ্রুততম সময়ে তাদের প্রাথমিক অবকাঠামোগত কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

খাতভিত্তিক রূপরেখা ও বিডার সমন্বিত পরিদর্শন

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা এরই মধ্যে জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার একটি কার্যকর রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। এখন খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও বিশেষ নথিপত্র প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া ও কারিগরি শর্তাবলি কখনই একটি টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া বা শর্তের সাথে মিলবে না; এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।"

শিল্পকারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার পরিদর্শন কার্যক্রম পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে। এখন থেকে বিডা (BIDA) নিজেই পরিদর্শনের একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে মাত্র একবারেই পুরো পরিদর্শন সম্পন্ন করবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আর বারবার ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার পরিদর্শকদের মুখোমুখি হতে হবে না।

জ্বালানি সংকট ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে (EV) ঝোঁক

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি (EV) প্রসঙ্গেও সরকারের কৌশলগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট আমাদের স্পষ্ট দেখিয়ে দিয়েছে যে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং যেকোনো বৈশ্বিক সংকটকালে এর সরবরাহ চেইন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে রূপান্তর করতে সরকার অত্যন্ত আগ্রহী এবং মন্ত্রিসভাতেও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ অবকাঠামোগত দিক থেকে এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার নিরিখে সরকার আপাতত ‘প্লাগ-ইন হাইব্রিড’ গাড়ির আমদানি, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

জাপানি বিনিয়োগ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)

জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী ঘরে বসে অনলাইনে মাত্র এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সব রাষ্ট্রীয় সেবা পাবেন; যা সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের আস্থা বৃদ্ধি করবে।

সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) ভূয়সী প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দু-দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পারস্পরিক প্রযুক্তি বিনিময় ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও বেগবান হবে।

এক নজরে ওয়ান-স্টপ উইন্ডো ও শিল্প লাইসেন্সিং নীতি (২০২৬)

প্রধান সংস্কার ও উদ্যোগনতুন বাণিজ্যিক ও আইনি রূপরেখা
নতুন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাসকল দপ্তরের সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনতে অনলাইন ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’
বিলম্ব এড়ানোর বিকল্পচূড়ান্ত কাগজপত্রের আগে প্রাথমিক কাজের জন্য ‘অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স’
ফ্যাক্টরি পরিদর্শন নীতিবিডার (BIDA) অধীনে সকল সংস্থার সমন্বয়ে মাত্র একবারই যৌথ পরিদর্শন।
পরিবহন খাত নীতিজ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানিতে জোর।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তিবাংলাদেশ-জাপান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রগতি।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক বিশেষ সংবাদদাতা: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, বিডার নতুন নীতিমালা, বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ক এবং দেশের শিল্প খাতের সব এক্সক্লুসিভ খবরের লাইভ আপডেটের জন্য চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency