জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্বে ১১ প্রস্তাবে সর্বসম্মতি, ৯টিতে ভিন্নমত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: জাতীয় সংসদ এলডি হল, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক আর্কাইভ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে মতামত দেয়। এর মধ্যে ১১টি প্রস্তাবে কোনো ভিন্নমত ছাড়াই সর্বসম্মতি হয়, আর বাকি ৯টি প্রস্তাবে অধিকাংশের সমর্থনে কিন্তু ভিন্নমত লিপিবদ্ধ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন,
“জুলাই সনদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত এবং বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের জন্য আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
প্রথম দফা সংলাপে ১৬৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে ঐকমত্য হয়, যার কিছু সরকার ইতিমধ্যে অধ্যাদেশ, নীতি বা নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাস্তবায়ন করেছে। তবে ২৫টি প্রস্তাব তখন আলোচনায় আসেনি।
দ্বিতীয় পর্বে আলোচ্য ২০টি বিষয় মূলত সাংবিধানিক কাঠামো, নির্বাচন প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিক অধিকার সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচন
নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সম্পর্কিত বিধান
বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ—
ক) সুপ্রিম কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ
খ) উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের সম্প্রসারণ
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নির্ধারণ
নির্বাচন কমিশন গঠন
পুলিশ কমিশন গঠন
নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন
প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান
সরকারি কর্ম কমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান (পূর্বের প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল/এনসিসি)
সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও নির্বাচন পদ্ধতি
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (উচ্চকক্ষের গঠন, নির্বাচন পদ্ধতি, এখতিয়ার)
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি ও ইলেকটোরাল কলেজ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
রাষ্ট্রের মূলনীতি
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব [অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)]
| সাল | ঘটনা | প্রভাব |
|---|---|---|
| ১৯৫৬ | পাকিস্তান সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সীমিত | কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার |
| ১৯৭২ | স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান | গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা |
| ১৯৭৫ | চতুর্থ সংশোধন, একদলীয় শাসন | ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ |
| ১৯৯১ | দ্বাদশ সংশোধন, সংসদীয় পদ্ধতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা | গণতন্ত্রে ফেরত |
| ২০১১ | পঞ্চদশ সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল | নির্বাচনী আস্থায় সংকট |
| ২০২৪ | গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার | নতুন সাংবিধানিক সংস্কারের সুযোগ |
| ২০২৫ | জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফা সংলাপ | মৌলিক কাঠামো সংস্কারে আংশিক ঐক্যমত |
দ্বিতীয় দফা সংলাপে ১১টি প্রস্তাবে সর্বসম্মতি প্রমাণ করে যে কিছু সাংবিধানিক ইস্যুতে রাজনৈতিক বিভাজন কমেছে। তবে অনুচ্ছেদ ৭০, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষ সংসদ ও রাষ্ট্রের মূলনীতি নিয়ে ভিন্নমত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কাঠামোগত সংস্কারে এখনো বড় বাধা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক আস্থা বাড়তে পারে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংবাদ সম্মেলন, ৮ আগস্ট ২০২৫
রাজনৈতিক সংস্কার সংলাপ আর্কাইভ (১৯৭২–২০২৫)
সাংবিধানিক ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |