ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ইস্যুতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সমাবেশকে বিজেপিবিরোধী দলগুলোর ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির সুযোগ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে এটিকে।
রোববারের এ সমাবেশে আম আদমি পার্টি ছাড়া বিরোধী দলগুলোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ।
সমাবেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রামলীলা ময়দানের সমাবেশে বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানান তিনি। মমতা বলেন, ‘আমরা হারিনি, জোর করে হারানো হয়েছে। বিজেপি বাংলাকে লুট করেছে। এদের ক্ষমতা থেকে সরাতেই হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা একদিকে বিজেপিবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য জোরদারের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরাজয়ের বিষয়টিও জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় তুলে ধরছেন।
সমাবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ভূমিকাও ছিল আলোচনায়। এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাহুল গান্ধী ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বিরোধী দলগুলোকে আবারও এক মঞ্চে আসার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সমাবেশে বিজেপিকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা। উত্তর প্রদেশের আগামী নির্বাচনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অখিলেশ যাদব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরতি জেরথের মতে, বিজেপি যখন বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করার চেষ্টা করছে, তখন রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ বিরোধীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তাঁর মতে, এসআইআর এমন একটি ইস্যু, যা রাজনৈতিক দলের বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলছে।
ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বরাবরই আলোচনায় ছিল। কখনো জোটের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে থেকেছেন, আবার কখনো নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে চাইছেন মমতা। তবে কংগ্রেসসহ জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সমাবেশে আম আদমি পার্টির অনুপস্থিতিও জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে বিরোধীদের এই ঐক্য কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সমাবেশের আগে শনিবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। এ সময় অভিজিৎ দীপককে পশ্চিমবঙ্গ সফরের আমন্ত্রণ জানান মমতা।
রোববারের সমাবেশে সিজেপির সমর্থন থাকলেও সংগঠনটির কেউ উপস্থিত থাকবেন না বলে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণদের মধ্যে সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বিরোধী নেতাদের যোগাযোগ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশ শুধু নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানোর মঞ্চ ছিল না; বরং বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন আলোচনা সামনে এনেছে। তবে এই সমাবেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা ইন্ডিয়া জোটের রাজনৈতিক অবস্থান কতটা শক্তিশালী করতে পারবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পদক্ষেপের ও
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |