রাজনৈতিক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু—‘গণভোটের রায়’ এবং ‘জুলাই সনদ’। ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শাহবাগে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য আমাদের রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতায় এসে সেই ৭০ শতাংশ জনগণের রায়কে অস্বীকার করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে কেন তিনি এখন সেই রায় বাস্তবায়ন করছেন না?”
জামায়াত নেতার মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে বিএনপি যেসব প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছিল, গণভোটের বিজয়ের পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ছলে-বলে-কৌশলে আবারও পুরনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়।
শাহবাগের এই গণসংযোগ কর্মসূচিতে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোও বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে:
মাওলানা জালাল উদ্দীন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস): তিনি বিএনপির দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন, এক দিনে হওয়া দুটি নির্বাচনের একটিকে বিএনপি বৈধ বললেও অন্যটিকে (গণভোট) অবৈধ বলছে।
জয়নাল আবেদীন শিশির (এনসিপি): তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিএনপি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে ৭০ শতাংশের রায় মানছে না, যা রাজনৈতিক প্রতারণা।
ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান (জাগপা): তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে আরেকটি ‘৫ আগস্টের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য দেশব্যাপী গণসংযোগ অভিযান শুরু করেছে। শাহবাগে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক সংকট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন এক নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন। একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে এই দূরত্ব প্রমাণ করে যে—‘সংস্কার’ ও ‘ক্ষমতা’র দ্বন্দ্বে জনরায় এখন মুখ্য ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি যদি ৭০ শতাংশ ভোটারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজপথে ১১ দলীয় ঐক্যের এই আন্দোলন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ‘এক পা এক পা’ করে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন যখন বোনা হচ্ছে, তখন এই রাজনৈতিক বিভাজন স্থিতিশীলতার পথে অন্তরায় হতে পারে।
| ইস্যু | জামায়াত ও ১১ দলের অবস্থান | বিএনপির অবস্থান (অভিযোগ অনুযায়ী) |
| গণভোটের রায় | ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ বলেছে, যা বাস্তবায়ন করতে হবে। | রায় উপেক্ষা করে পুরনো ব্যবস্থায় ফেরা। |
| জুলাই সনদ | জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। | নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে সংস্কারে বাধা। |
| তারেক রহমানের ভূমিকা | নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়েছিলেন। | এখন রায় মানছেন না। |
| আন্দোলন | ৯-১৫ এপ্রিল দেশব্যাপী গণসংযোগ ও রাজপথের প্রস্তুতি। | সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |