অস্তিত্ব রক্ষায় সঠিক সিদ্ধান্তের কোনো বিকল্প নেই: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঠাকুরগাঁও: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শিকড় গভীরে প্রোথিত। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ববর্তী রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—প্রতিটি বাঁকই ছিল এ দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জাতির জন্য এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, "দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষার পর আমরা এই নির্বাচনটি পেয়েছি। এই নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কিন্তু আমরা যদি ভুল করি, তবে দেশ আবারও গভীর সংকটে পড়বে।"
স্বাধীনতা যুদ্ধকে বাঙালির অস্তিত্বের শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমাদের শিকড়কে জানা উচিত। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদের নতুন দেশ, ভূখণ্ড এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সুযোগ দিয়েছে। এটিই আমাদের বেঁচে থাকার মূল শক্তি। দুর্ভাগ্যবশত, একটি গোষ্ঠী আজ একাত্তরকে পেছনে ফেলে দিতে চায়। একাত্তরকে অস্বীকার করা মানে আমাদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।"
তিনি জোরালো ভাষায় বলেন, "১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে আমরা আপসহীন। এই ভিত্তিগুলোকে ঘিরেই আমরা সামনে এগোতে চাই।"
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন স্বাধিকার আন্দোলনের হাওয়া লেগেছিল, তখন থেকেই এ দেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন ছিল। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য রক্তদান এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বারবার পালাবদল এসেছে।
বিশেষ করে ১৯৯১-এর গণতান্ত্রিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালকে সংস্কার ও পুনর্গঠনের বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ৭৭ বছরের (পাকিস্তান আমলের ২৩ ও বাংলাদেশের ৫৪ বছর) অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যখনই জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে, তখনই গণতন্ত্র পথ হারিয়েছে।
ভোটের সময় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার নানামুখী অপকৌশল নিয়ে সতর্ক করে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেন, "ভোটের সময় ধর্মকে ব্যবহার করে এবং মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, ভোট একটি পবিত্র আমানত। কোনো অপকৌশলে বিভ্রান্ত না হয়ে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এই আমানত রক্ষা করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ঘরের কাছের মানুষও আপনাকে ভুল পথে ধাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমাদের বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৬-এর আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল মানুষের ভোটাধিকার। মির্জা ফখরুল ইসলামের এই বক্তব্য কেবল একটি দলের প্রচার নয়, বরং তা গণতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক বিশেষ বার্তা হিসেবেই দেখছেন ভোটাররা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ব্যালট যুদ্ধই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |