সিলেটের শাহী ঈদগাহে লাখো মুসল্লির ঢল: দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিলেট: মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এবং কয়েকশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দান আজ রূপ নিয়েছিল এক জনসমুদ্রে। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেন সিলেটের সর্বস্তরের লাখো মানুষ। এবারের জামাত কেবল ধর্মীয় আবহে নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের দিক থেকেও ছিল অনন্য। জামাতে নামাজ আদায় করেন সরকারের দুই প্রভাবশালী সদস্য—বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেটের শাহী ঈদগাহের ইতিহাস কেবল নামাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে ১৯৪৭-এর গণভোটের সময়ও এই ময়দান ছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কারের পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে শাহী ঈদগাহে রাজনৈতিক নেতাদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বিগত ১০০ বছরে সিলেটের এই পবিত্র ময়দান থেকে বহু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঘোষণা এসেছে। ২০২৬ সালের এই সংস্কারমুখী বাংলাদেশে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দুই মন্ত্রীর সাধারণ মানুষের সাথে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া এবং ঈদগাহের উন্নয়নের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়।
এবারের ঈদের জামাতে খুতবা পেশ করেন সিলেটের প্রখ্যাত আলেম ও বরুনার পীর সাহেব আল্লামা রশিদুর রহমান ফারুক। নামাজের আগে ঈদগাহ কমিটির মোতাওয়াল্লী ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রথা অনুযায়ী ঈদগাহের আয়-ব্যয়ের হিসাব মুসল্লিদের সামনে তুলে ধরেন এবং এর সৌন্দর্য বর্ধনের প্রতিশ্রুতি দেন।
বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।" অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "যারা প্রবাসে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের দেহ সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।"
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই জামাতে অংশ নেন। পুরো ঈদগাহ এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তবে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নগরের বাইরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের অংশগ্রহণে শাহী ঈদগাহে আজ এক প্রাণের মেলা বসেছিল।
নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে পানাহ চাওয়া হয়। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিমদের নিরাপত্তা এবং ২০২৬ সালের নতুন পথচলায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়।
সূত্র: সিলেট শাহী ঈদগাহ কমিটি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রেস উইং, যুগান্তর এবং আঞ্চলিক সংবাদ আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী এই ময়দান ১৯০০ সাল থেকে আজ অবধি সিলেটের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক। ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীদের সরাসরি উপস্থিতি ও জনসম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এবং জনগণের দূরত্ব কমে আসছে। বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও শাহী ঈদগাহের এই মিলনমেলা শান্তি ও ঐক্যের এক অনন্য বার্তা বহন করে।
সুত্র: সংসদ সচিবালয়, সিলেট জেলা প্রশাসন ও যুগান্তর আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |