দেশজুড়ে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের জুন মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সোমবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ জন এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯২ জন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রোগী বরিশাল বিভাগে, যেখানে একদিনেই ১২৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অন্য বিভাগগুলোতে আক্রান্তের পরিসংখ্যান হলো:
চট্টগ্রাম বিভাগ: ৮০ জন
ঢাকা বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে): ৩১ জন
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন: ২২ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: ৬৪ জন
খুলনা বিভাগ: ২৫ জন
রাজশাহী বিভাগ: ৪১ জন
ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ: ১ জন করে
এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ডেঙ্গু এখন আর কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক নয়—সারা দেশে এটি ছড়িয়ে পড়ছে।
এ বছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর মোট মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, ২০২4 সালের মাঝামাঝিতে এসেও ডেঙ্গু বাংলাদেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি হয়ে রয়েছে।
গতকাল (২২ জুন) ৩২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ জনের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ভর্তি বেড়ে ৬৩ জনে উন্নীত হয়েছে এবং মৃত্যুও বেড়েছে ২ গুণ।
এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে না পারলে জুলাই-আগস্টে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে, যা ২০১৯ বা ২০২৩ সালের মতো বড় আকার ধারণ করতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের সচেতনতামূলক প্রচারণা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও রোগী বাড়ার পেছনে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
✅ অনিয়মিত বৃষ্টি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন
✅ বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি
✅ অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত ধোঁয়ানির ব্যবস্থা না থাকা
✅ জনগণের মাঝে এখনও সচেতনতার অভাব
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন,
“ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ওষুধ ছিটানো বা মশা মারাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বাসাবাড়ি, অফিস ও নির্মাণ স্থানে পানি জমে আছে কিনা তা দেখভাল করা প্রয়োজন।”
স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং বিশেষ করে নিচের নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলেছে:
জমে থাকা পানি ৩ দিনের বেশি রাখা যাবে না
ফুলদানী, এয়ার কন্ডিশনের ট্রে, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন পরিষ্কার রাখতে হবে
দিনে ও রাতে উভয় সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে
জ্বর হলেই দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান
নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বেশ কিছু ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব অত্যধিক। একই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও বরিশালের কিছু শহরতলিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই যদি ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার না করা হয়, তবে জুলাই-আগস্টে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হলেও অনেক জায়গায় কার্যকর ব্যবস্থা এখনো দেখা যাচ্ছে না।
অনেক এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, শুধু ছবি তোলার জন্য ‘ফগিং’ করা হয়, কিন্তু বাস্তবে মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো পরিবর্তন আসে না।
ডেঙ্গু এখন আর কেবল ঢাকা শহরের সমস্যা নয়; এটি সারা দেশের একটি বিপর্যয়মূলক রোগে রূপ নিয়েছে। সংক্রমণ রোধে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
একটি ফুলদানির জমে থাকা পানি কিংবা একটুকরো কাঁচে জমে থাকা জলও হতে পারে মৃত্যু ডেকে আনার কারণ। তাই পরিবার, প্রতিবেশী, অফিস—সব জায়গায় সচেতনতা ও সতর্কতাই একমাত্র পথ।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |