নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২১ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় হাজির হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেছেন, তাকে অপহরণ করে গুম, নির্যাতন ও ভারতের কারাগারে বছরের পর বছর আটক রাখা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, সুখরঞ্জন বালি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তার অভিযোগে বলা হয়েছে—
২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার পরপরই তাকে আদালত চত্বর থেকে অপহরণ করা হয়।
অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
দীর্ঘ সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম কারাগারে আটক রাখা হয়, যেখানে কোনো বিচার ছাড়াই দিন কাটাতে হয়।
সুখরঞ্জন বালি ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী। তবে আদালতে এসে তিনি সাঈদীর পক্ষে কথা বলেন। তার পরপরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। বিষয়টি তখন দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে। কয়েক মাস পর ভারতের একটি কারাগারে তাকে পাওয়া যায় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো খবর প্রকাশ করে।
বাংলাদেশে গুম ও অপহরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, গত এক দশকে হাজারো মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকে আর ফিরে আসেননি। একটি তদন্ত কমিশন এর আগেই জানিয়েছিল, গুম–নির্যাতনের অনেক ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার জড়িত।
সুখরঞ্জন বালি আজকের অভিযোগের মাধ্যমে সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিলেন। তিনি বলেন, “আমার মতো একজন আদালতের সাক্ষীকে যদি গুম করে বছরের পর বছর বন্দি রাখা যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
এই অভিযোগ শুধুই ব্যক্তিগত ঘটনার বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ এ অভিযোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি অভিযুক্ত করছে। জুলাই বিপ্লব (২০২৪)–এর পর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া হাসিনা এখন বিদেশে অবস্থান করছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে, তবে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে।
প্রসিকিউশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হতে পারে। এ ছাড়া বালির সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম ও নির্যাতন দীর্ঘদিনের এক কালো অধ্যায়। ভাষা আন্দোলন (১৯৫২) থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১), সামরিক শাসন (১৯৭৫–১৯৯০), গণআন্দোলন (১৯৯০), জরুরি সরকার (২০০৭) এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লব (২০২৪)—প্রতিটি যুগে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
সুখরঞ্জন বালির অভিযোগ প্রমাণ করে, রাষ্ট্র যখন আইন ও বিচারকে পাশ কাটিয়ে শক্তি প্রয়োগ করে, তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মানুষের আস্থা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি।
BanglaNews24: সুখরঞ্জন বালির অভিযোগ, শেখ হাসিনার বিচার দাবি
TBS News: Witness Sukharanjan Bali files complaint
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |