| বঙ্গাব্দ

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-10-2026 ইং
  • 265138 বার পঠিত
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশন: হেফাজতে মৃত্যু চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান চায় সরকার: সংবিধানে নতুন বিধান যুক্তের উদ্যোগ

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিক যাতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা কারা হেফাজতে মৃত্যুর শিকার না হন, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ কঠোর ও চূড়ান্ত প্রশাসনিক-আইনি পদক্ষেপ নিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সুরক্ষামূলক বিধান অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপালে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতীয় সংসদ ভবনে বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি বিকেল ৪টার পর শেষ হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় একটি সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন মতামত উঠে এসেছে—তা হলো দেশে যেন ভবিষ্যতে আর একজন মানুষও রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বা গুমের শিকার না হন, তার স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি জানান, ইতোমধ্যে গুমসংক্রান্ত যেসব মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু, দ্রুত ও প্রভাবমুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া যাঁরা গুমের পর এখনো ফিরে আসেননি, তাঁদের স্বজনদের আবেদন বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক সুরক্ষা অতীতে নিজেও দীর্ঘকাল গুমের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক স্মৃতি ও করুণ অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশে যেন আর কোনো দিন এমন ভয়াল ও কালো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার। গুমের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর অপসংস্কৃতি আমরা চিরতরে বন্ধ করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যে বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করা দরকার, সেগুলো সরাসরি সংবিধানের সংশোধনীতে এবং যে বিষয়গুলো আইন বা বিধিমালার অধীন, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোতে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

সংবিধানে গুম প্রতিরোধে নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ বা অনুশাসন যুক্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বিদ্যমান সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা রয়েছে। এ বিষয়ে সংবিধানে পর্যাপ্ত নীতিগত স্বীকৃতি রয়েছে, তবে সেটিকে কীভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও বিরোধী দলের আন্দোলন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করতেই হবে। তবে কী আইনি প্রক্রিয়ায় এই সরকার গঠিত হবে, এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত এবং কীভাবে সব ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব—বিশেষ কমিটি তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। জাতীয় সংসদে এই সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের পরও সব পক্ষকে নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা, বিতর্ক ও নতুন প্রস্তাব গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

অন্যদিকে বিরোধী দলের রাজপথের আন্দোলন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বর্তমানে দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন করছে। তারা রাজপথকে অগ্রাধিকার না দিয়ে যদি সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে সশরীরে এসে নিজেদের দাবি-দাওয়া ও গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো তুলে ধরত, তবে কমিটি আন্তরিকতার সঙ্গে তা শুনত ও বিবেচনা করত।

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্য ও বিগত আট মাসের চিত্র সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বার্তা দিতে গিয়ে আইজিপি হয়তো অসতর্কভাবে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, যার ব্যাখ্যা পরবর্তীতে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের স্পর্শকাতর শব্দচয়ন কখনোই যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত আট মাসে দেশে কোনো ধরনের ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা গুমের ঘটনা ঘটেনি। একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সরকার তাৎক্ষণিক তদন্ত করেছে এবং দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বা প্রমাণযোগ্য অভিযোগ উপস্থাপন করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সাক্ষ্য সংসদ সচিবালয়ের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠিত বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে অতীতে তাঁদের পরিবারগুলোর ওপর বয়ে যাওয়া অমানসিক নির্যাতন, চরম আইনি সুরক্ষার অভাব এবং বছরের পর বছর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের কঠোর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংবিধানে কার্যকর ও স্থায়ী সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বজনরা গুম প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন, দ্রুততম সময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, গুমের শিকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট দাবি জানান।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency