প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পুরান ঢাকা মানেই রাজনীতির বিশেষ রসায়ন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৭ (লালবাগ, চকবাজার, বংশাল ও কামরাঙ্গীরচর) আসনে বইছে তীব্র নির্বাচনি হাওয়া। দীর্ঘ ২০ বছরের সংসদ সদস্য শূন্যতা কাটাতে বিএনপি মরিয়া হলেও দলীয় কোন্দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উত্থানে ভোটের হিসাব এখন জটিল অঙ্কে রূপ নিয়েছে।
ঢাকার রাজনীতির ইতিহাস ১৯০০ সালের সেই ঢাকা প্রকাশ পত্রিকা আর নবাবদের আমল থেকেই অভিজাত। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—পুরান ঢাকার মানুষ সবসময় রাজপথে থেকেছে। ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবর্তনে দেখা গেছে, এই জনপদ যাকে গ্রহণ করেছে, ক্ষমতার পাল্লা তার দিকেই হেলেছে।
ইতিহাস বলছে, ২০০১ সালে (অষ্টম সংসদ নির্বাচন) এই আসনে বিএনপির নাসির উদ্দিন পিন্টু জয়ী হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। হাজী সেলিম ও সোলায়মান সেলিমের হাত ধরে এক দশকেরও বেশি সময় এখানে নৌকার জয়জয়কার থাকলেও ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর ২০২৬-এর এই নির্বাচনে দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে।
বিএনপি এবার এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদকে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত তুখোড় নেতা ইসহাক সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধানের শীষের ভোটব্যাংকে ইসহাক সরকারের ‘ফুটবল’ ভাগ বসালে তার সুফল পেতে পারে অন্য দলগুলো। হামিদুর রহমান হামিদ বলছেন, “মানুষ ধানের শীষের জন্য মুখিয়ে আছে, কোনো বিভক্তি ধানের শীষের জয় ঠেকাতে পারবে না।” অন্যদিকে ইসহাক সরকারের সমর্থকদের দাবি, এলাকার সন্তান হিসেবে তিনি তিন শতাধিক মামলার শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়েননি, তাই সাধারণ মানুষ তাকেই বেছে নেবে।
ঢাকা-৭ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। তবে এবারের নির্বাচনি সমীকরণের প্রধান কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে কামরাঙ্গীরচর। নতুন যুক্ত হওয়া প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ভোটার ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের (কামরাঙ্গীরচর) বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, লালবাগ ও বংশালের ভোট প্রার্থীরা ভাগ করে নিলেও কামরাঙ্গীরচরের বিশাল ভোটব্যাংক যার বাক্সে যাবে, তিনিই হবেন আগামীর এমপি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগে নিরবে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা) চকবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আলেম সমাজকে লক্ষ্য করে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান (হাতপাখা) বিগত নির্বাচনের প্রায় ২৬ হাজার স্থায়ী ভোটকে পুঁজি করে বড় চমক দেখানোর অপেক্ষায় আছেন।
বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ এলাকার গ্যাস সংকট, পয়ঃনিষ্কাশন ও যানজট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে পুরান ঢাকাকে উন্নত তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ব।” অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনের অঙ্গীকার করেছেন। নির্বাচনি মাঠে আরও রয়েছেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন (লাঙ্গল) এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য প্রার্থীরা।
পুরান ঢাকার সরু গলি থেকে শুরু করে কামরাঙ্গীরচরের খোলা মাঠ—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা: ১২ ফেব্রুয়ারি কি ধানের শীষের জয় হবে, নাকি ‘ফুটবল’ বা ‘দাঁড়িপাল্লা’র কোনো বড় চমক দেখবে দেশবাসী?
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), উইকিপিডিয়া বাংলাদেশ, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, নির্বাচন কমিশন ঢাকা অঞ্চল এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্যানেল।
ঢাকা-৭ আসনের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের কোনো সক্রিয় প্রার্থী না থাকায় তাদের ‘ফ্লোটিং ভোট’ বা ভ্রাম্যমাণ ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। বিএনপির ভোট দুই ভাগে ভাগ হলে এবং জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন তাদের ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারলে লড়াইটি হবে আক্ষরিক অর্থেই চতুর্মুখী। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন পুরান ঢাকার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে দেবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |