তথ্য অধিকার আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত করতে তথ্য কমিশনকে স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব তথ্য অধিকার ফোরামের
তথ্য অধিকার ফোরাম বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডির ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে, তারা দেশের তথ্য অধিকার আইনের সংশোধন এবং তথ্য কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছে। ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন সঠিকভাবে কার্যকর করার জন্য এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তথ্য কমিশনকে স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
তথ্য কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ
তথ্য অধিকার ফোরাম ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলছেন, গত ছয় মাস ধরে দেশের তথ্য কমিশন কার্যকর নেই, যা দেশের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিরল ঘটনা। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটা বিশ্বের মাঝে বিরল একটি ঘটনা এবং দেশের জন্য বিব্রতকর। এর জন্য দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো উচিত। যদি তথ্য কমিশন কার্যকর না থাকে, তবে জনগণের তথ্য অধিকার হুমকির মুখে পড়ে এবং সরকারি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, "দেশের তথ্য কমিশন প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু যদি কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ না করে, তবে এটি আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে না।"
তথ্য অধিকার আইনে সংশোধনীর প্রস্তাব
তথ্য অধিকার ফোরাম তাদের প্রস্তাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করেছে। ফোরামের মতে, আইনটি আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে কিছু সংশোধনী প্রয়োজন। এই সংশোধনী প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক দলগুলোকেও তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই প্রস্তাবের সমর্থনে বলেছেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকেও তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্বচ্ছ এবং জবাবদিহি না হয়, তবে দেশটি সঠিকভাবে পরিচালিত হবে না এবং অতীতে যে ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা তুলে ধরা, এবং এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে যদি কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়, তবে তাদেরও এই আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়।”
স্বাধীন তথ্য কমিশন এবং স্বচ্ছতার গুরুত্ব
তথ্য অধিকার আইনের অধীনে, নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, যদি তথ্য কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ না করে এবং কমিশনের কার্যকারিতা অকার্যকর থাকে, তাহলে এটি জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এই কারণেই ফোরাম তথ্য কমিশনকে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরকার থেকে আলাদা থাকবে এবং সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছভাবে কাজ করবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, তথ্য কমিশন স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে এবং সরকারের কোনো প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই দেশের জনগণের অধিকার রক্ষা করে। একটি স্বাধীন কমিশন নিশ্চিত করতে পারলে, জনগণ তাদের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।”
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |