| বঙ্গাব্দ

মার্কিন প্রশাসন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধতা বাতিল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-03-2025 ইং
  • 3810432 বার পঠিত
মার্কিন প্রশাসন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধতা বাতিল
ছবির ক্যাপশন: মার্কিন প্রশাসন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধতা বাতিল

মার্কিন প্রশাসন পাঁচ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা বাতিল করল: ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির নতুন পদক্ষেপ

মার্কিন প্রশাসন কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির এক নতুন এবং কঠোর পদক্ষেপ, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল। এই পদক্ষেপটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসনের আগের নীতির বিপরীতে একটি কড়াকড়ি আরোপের চিহ্ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় গভীর পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ফেডারেল রেজিস্ট্রারে শুক্রবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ২০২১ সালে প্রবর্তিত ‘প্যারোল’ (সাময়িক প্রবেশাধিকার) প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাবে। এই ‘প্যারোল’ প্রক্রিয়াটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেছিল, যা এখন থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।

প্যারোল ব্যবস্থার বাতিলকরণ

প্যারোল প্রক্রিয়া ২০২১ সালে চালু হয়, যখন বাইডেন প্রশাসন কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী প্রবেশাধিকার সরবরাহ করে। এটি ছিল তাদের জন্য একটি ‘অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা’, যা তাদের বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ প্রদান করেছিল। এই ব্যবস্থাটি অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করেছিল এবং এই অভিবাসীদের কাছে এটি ছিল একটি আশার সঞ্চার।

তবে, ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং এটি অভিবাসীদের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে। প্যারোল মর্যাদা বাতিল হলে, এসব অভিবাসী দ্রুত অবৈধ অবস্থায় পরিণত হবে এবং তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

অভিবাসন নীতির পুনঃপর্যালোচনা

এটি নতুন অভিবাসন নীতির একটি অংশ, যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন প্রবাহকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত তার প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে একাধিক পরিবর্তন আনে, যার মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা, এবং অভিবাসী পরিবারের বিচ্ছিন্নকরণ ছিল। ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, অভিবাসীদের জন্য প্যারোল ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, যাতে তাদের বৈধতার কোনো সুযোগ না থাকে।

প্যারোল বাতিলের মাধ্যমে এই অভিবাসীদের অবস্থা বৈধতা হারাবে এবং তাদের নির্বাসন দ্রুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এতে করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে আর কোনো আইনি সুরক্ষা পাচ্ছে না এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলার অভিবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত

এই পরিবর্তন মূলত কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া, এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য প্রভাবিত হবে, যারা সিএইচএনভি স্পনসরশিপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে ভেনেজুয়েলাবাসীদের জন্য এই ‘প্যারোল’ প্রবেশাধিকার চালু করে, পরে ২০২৩ সালে এটি কিউবা, হাইতি, এবং নিকারাগুয়ায়ও সম্প্রসারিত হয়।

অথচ, নতুন এই পদক্ষেপের ফলে তারা বৈধতা হারাবে এবং দ্রুত অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে এবং তারা নির্বাসনের আওতায় পড়বেন।

বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পার্থক্য

যদিও বাইডেন প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ একটি পরিপূর্ণ রিভার্সাল। বাইডেন তার প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে অভিবাসীদের জন্য কিছুটা সহনশীলতা প্রদানের চেষ্টা করেছিলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অস্থায়ী শরণার্থী ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে। তবে, ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী, এসব অস্থায়ী ব্যবস্থা বাতিল করা হচ্ছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর সঙ্গে অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

এই পদক্ষেপের ফলে কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য ভবিষ্যতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য আর কোনো আইনি প্রবাহ থাকবে না, এবং তারা সীমান্তে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, কারণ অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির ওপর নির্ভরশীল।

উইক্রেনীয়দের প্যারোল মর্যাদা বাতিলের বিষয়ও আলোচনায়

এদিকে, গত ৬ মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ইউক্রেনীয়দের প্যারোল মর্যাদা বাতিল করা হবে কিনা সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। এটি আরও এক ধাপ অভিবাসন নীতির কঠোরকরণের দিকে নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিবাসন নীতির প্রতি মানুষের ধারণা এবং উপলব্ধি পরিবর্তিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, বিশেষত সেই দেশগুলোর জন্য যারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির প্রতি নির্ভরশীল। এছাড়া, অভিবাসন প্রক্রিয়ার কঠোরতার ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ এবং অস্থিরতা বাড়বে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency