| বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেট শাটডাউনের নীলনকশায় জয় ও পলক: ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-01-2026 ইং
  • 1717915 বার পঠিত
ইন্টারনেট শাটডাউনের নীলনকশায় জয় ও পলক: ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
ছবির ক্যাপশন: পলক

ইন্টারনেট শাটডাউন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ: ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নিছক কারিগরি ত্রুটি ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত নীলনকশা। সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নিজের দেওয়া আগের বক্তব্যই এখন তার বিরুদ্ধে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে’—পলকের এমন দাবি ছিল মূলত সত্য গোপনের অপচেষ্টা।

ট্রাইব্যুনালে যা ঘটল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ গঠনের শুনানিতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের গোপন কথোপকথন পড়ে শোনানো হয়। প্রসিকিউশন দাবি করে, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করার বিষয়ে তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের সেই আলোচিত বক্তব্যের বিবরণ নিজেই শুনেছেন পলক।

চীফ প্রসিকিউটর শুনানিতে উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকার সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়া বা বিটিসিএল ভবনে আগুন লাগার নাটক সাজিয়ে দায়ভার আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলক মিলে এই শাটডাউনের নীলনকশা করেছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনীতি ও যোগাযোগের ইতিহাসে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। ১৯০০-এর দশকের ব্রিটিশ শাসনামলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের জন্য ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’-এর মতো কালাকানুন ছিল। ১৯৪৭ পরবর্তী পাকিস্তান শাসনামলেও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনের সময় প্রচারমাধ্যম ও জনমত দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নজিরবিহীনভাবে পুরো দেশ থেকে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। ২০২৫ সালে এসে এসব অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং ২০২৬ সালের শুরুতেই এর চূড়ান্ত শুনানির দিকে ধাবিত হওয়া বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ও বিচারিক প্রক্রিয়া গত ৪ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। পলাতক থাকা অবস্থায় জয়ের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বৃদ্ধির আবেদনটিও সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে চেম্বার আদালতে উত্থাপন করা হবে।

আগামী ১৫ জানুয়ারি এই মামলায় আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জনমনে এখন প্রশ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার দাবিদাররা কেন ইন্টারনেটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনে লিপ্ত হয়েছিলেন?


সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪-২০২৫)। ২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন উইং (২০২৫-২০২৬ রিপোর্ট)। ৩. বিটিআরসি ও সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড টেকনিক্যাল এনালাইসিস রিপোর্ট।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency