আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং এর মালিক রুপার্ট মারডকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫৪ কোটি টাকা।
শুক্রবার (১৯ জুলাই) ফ্লোরিডার মিয়ামির একটি ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, একটি ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও মানহানিকর প্রতিবেদন’ প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের একটি জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা কেন্দ্র করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ট্রাম্পের লেখা একটি বার্তার ছবি ছাপা হয়, যার চারপাশে ছিল নগ্ন নারীর হাতে আঁকা ছবি এবং ‘তাদের ভাগ করা গোপন তথ্য’ সংবলিত কিছু বাক্য।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের ফলে ট্রাম্পের আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনে ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’ প্রভাব পড়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন:
রুপার্ট মারডক (মালিক, নিউজ কর্প)
ডাও জোন্স অ্যান্ড কো.
নিউজ কর্পোরেশনের সিইও রবার্ট থমসন
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দুই প্রতিবেদক
ট্রাম্প এই প্রতিবেদনকে “ফেইক নিউজ”, “বিষাক্ত” ও “মানহানিকর” বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন,
“আমরা এখন এই মিথ্যা ও অপমানজনক আর্টিকেলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, তিনি পূর্বেই এই প্রতিবেদন নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
আইন বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া ‘অত্যন্ত অতিরঞ্জিত’ দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে অ্যালেক্স জোন্সের বিরুদ্ধে ১.৫ বিলিয়ন ডলার
ফক্স নিউজের বিরুদ্ধে ডোমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমের মামলায় ৭৮৭.৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ
— এসবই ছিল উচ্চতম মানহানি রায়।
একজন ফেডারেল আইনজীবী বলেন,
“দশ বিলিয়ন ডলার মানহানি মামলা আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।”
জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়েও এই মামলার প্রেক্ষাপট স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
২০০২ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন,
“জেফকে ১৫ বছর ধরে চিনি। দুর্দান্ত লোক। সে সুন্দরী তরুণীদের পছন্দ করে—এমন কথাও আছে।”
কিন্তু ২০১৯ সালে ট্রাম্প দাবি করেন,
“আমি ২০০৬ সালে তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছি।”
২০১৯ সালে জেফরি এপস্টেইন নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন।
তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ায়, বিশেষ করে ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে—যাদের অনেকেই মনে করেন, “শক্তিধরদের নাম ফাঁস এড়াতেই এপস্টেইনকে হত্যা করা হয়েছে।”
মার্কিন বিচার বিভাগ অবশ্য সম্প্রতি জানিয়েছে,
“তার মৃত্যু ছিল আত্মহত্যা এবং কোনো ‘গ্রাহক তালিকা’ বা ব্ল্যাকমেইল প্রমাণ মেলেনি।”
ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানান, তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে আদালতে পাঠিয়েছেন, যাতে এপস্টেইন সংক্রান্ত গ্র্যান্ড জুরি সাক্ষ্য প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়।
পরদিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারও নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কোর্টে গ্র্যান্ড জুরি রেকর্ড উন্মুক্ত করার আবেদন করে।
এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে কিশোরীদের যৌন নিপীড়নে সহায়তা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তিনি বর্তমানে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন, এবং সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন।
এই মামলা শুধু ট্রাম্পের জন্যই নয়, বরং মার্কিন সংবাদমাধ্যম, রাজনীতি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও গভীর প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে:
এটি মিডিয়া বনাম রাজনীতি দ্বন্দ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে
একই সঙ্গে এটি মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণের সীমা ও ব্যাকরণে নজির স্থাপন করতে পারে
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |