| বঙ্গাব্দ

ভারত-আমিরাত প্রযুক্তি জোট ও নরেন্দ্র মোদির দুবাই সফর ২০২৬: বিস্তারিত বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-05-2026 ইং
  • 7641 বার পঠিত
ভারত-আমিরাত প্রযুক্তি জোট ও নরেন্দ্র মোদির দুবাই সফর ২০২৬: বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: মোদির দুবাই সফর

ভারত-আমিরাত ‘প্রযুক্তি-জোট’: নরেন্দ্র মোদির দুবাই যাত্রা ও এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ


নয়াদিল্লি/আবুধাবি: ইউরোপ সফরের পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম স্থিতিশীল রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর জোটে রূপান্তর করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

জ্বালানি ছাড়িয়ে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব

এক দশক আগেও ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক ছিল মূলত তেল কেনা-বেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে ২০২৬ সালে এসে তা প্রতিরক্ষা ও উচ্চপ্রযুক্তির এক নতুন স্তরে পৌঁছেছে।

  • প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ‘ভারত-আমিরাত প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা ফোরাম’ আয়োজনের পর থেকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গতি এসেছে। বর্তমানে উভয় দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে মনোনিবেশ করছে।

  • প্রযুক্তি জোট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সুপারকম্পিউটিং এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে দুই দেশ এখন একে অপরের পরিপূরক। যৌথভাবে একটি বৃহৎ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই সুপারকম্পিউটার নির্মাণের উদ্যোগ এবং ভারতের ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার সাথে আমিরাতের লেনদেন প্ল্যাটফর্মের সংযুক্তি এই সম্পর্কের ডিজিটাল সক্ষমতার প্রমাণ।

অর্থনৈতিক বন্ধনের নয়া উচ্চতা: ২০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (CEPA) দুই দেশের বাণিজ্যকে আমূল বদলে দিয়েছে।

  • বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দুই দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে এই বাণিজ্যকে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

  • বিনিয়োগের জোয়ার: ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমিরাত থেকে ভারতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২.৮৪ বিলিয়ন ডলার। আবুধাবি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে গুজরাটের ‘গিফট সিটি’-তে তাদের শাখা কার্যালয় স্থাপন করে ভারতের অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান ও কৌশলগত গুরুত্ব

আমিরাতে বসবাসরত ৩৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় প্রবাসী এখন কেবল শ্রমশক্তি নয়, বরং দেশটির অর্থনীতি ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও এই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বিশাল অবদান রাখছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবুধাবি ও নয়াদিল্লির মধ্যকার আস্থার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

উপসংহার

সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, তখন ভারত খুঁজছে বড় বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক অংশীদার। এই পারস্পরিক প্রয়োজনে গড়ে উঠছে এক শক্তিশালী ‘প্রযুক্তি-জোট’। তবে পশ্চিম এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই হবে ভারতের জন্য আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


তথ্যসূত্র (References):

  • দ্য সেক্রেটারিয়েট (The Secretariat): বিশেষ কলাম ও বিশ্লেষণ।

  • রয়টার্স ও এএনআই: প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্ভাব্য সফর ও দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সংক্রান্ত সংবাদ।

  • ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি-রপ্তানি পরিসংখ্যান।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency