| বঙ্গাব্দ

আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যাম ব্যবহারের পরিকল্পনা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-08-2025 ইং
  • 4395667 বার পঠিত
আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যাম ব্যবহারের পরিকল্পনা
ছবির ক্যাপশন: প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, এআই প্রযুক্তিতে দূর থেকে নজরদারি হবে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১০ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা
উৎস: যুগান্তর ও সংগৃহীত তথ্য


নির্বাচন নিরাপত্তায় নতুন প্রযুক্তির সংযোজন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একটি করে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, এসব ক্যামেরায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযোজিত থাকবে, যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) দূর থেকে কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি

শফিকুল আলম বলেন, “এগুলো থাকলে নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দূর থেকেই এসপি ও ডিসি বুঝতে পারবেন কী ঘটছে। কোনো কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।”

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ।

বডি ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত

এর আগে শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ৪০ হাজার নতুন বডি ক্যাম কেনার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

  • প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী

  • ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ

বর্তমানে পুলিশের কাছে প্রায় ১০ হাজার বডি ক্যাম রয়েছে। নতুন ৪০ হাজার ক্যামেরা দ্রুত সংগ্রহ করা হবে এবং ব্যবহারকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে আলোচিত বিষয়

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় বৈঠকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে নির্বাচনে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কিভাবে এসব ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়, সেই মডেলগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। দেশের ১২ কোটি ৬০ লাখ ভোটার যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে বডি ক্যাম কেনা হচ্ছে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবসময় বড় চ্যালেঞ্জ।

  • ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচন: মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী উৎসবমুখর ভোট, কিন্তু নিরাপত্তা কাঠামো ছিল সীমিত।

  • ১৯৯১ ও ২০০১ নির্বাচন: তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হলেও গ্রামীণ এলাকায় সহিংসতার নজির রয়েছে।

  • ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচন: সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল ও অনিয়মের অভিযোগ দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়।

  • ২০২৬ নির্বাচন প্রস্তুতি (২০২৫ সালের প্রেক্ষাপট): প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারির মাধ্যমে অনিয়ম রোধের উদ্যোগ প্রথমবারের মতো এতো বড় পরিসরে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষণ

বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে পারে। তবে কার্যকারিতা নির্ভর করবে—

  1. লাইভ মনিটরিংয়ের সক্ষমতা

  2. ডাটা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা

  3. নিরপেক্ষ ব্যবহারের নিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বহু দেশে নিরাপত্তা বাহিনীর বডি ক্যাম ব্যবহার পুলিশি কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়িয়েছে, তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও তথ্য গোপনের ঝুঁকিও বিদ্যমান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও আইনি কাঠামো উভয়ই শক্তিশালী করতে হবে।


সূত্র

  1. যুগান্তর প্রতিবেদন, ১০ আগস্ট ২০২৫।

  2. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তথ্য, ২০২৫।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency