বিশেষ প্রতিবেদন | ০৫ মে ২০২৬
কলকাতা: ২০১১ সালের ২১ জুলাই যে ব্রিগেডে তৃণমূলের জয়জয়কার ছিল, ১৫ বছর পর ২০২৬-এর মে মাসে সেই বাংলাতেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হলো ঘাসফুল শিবিরকে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূলের এই অভাবনীয় পতনের নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরীণ ‘মিডল অর্ডার’ ধস এবং নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বকেই দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১৯৯৮ সালে তৃণমূলের যাত্রালগ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়, সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং ফিরহাদ হাকিমের মতো নেতারা। এরাই ছিলেন মমতার সেই শক্তিশালী ‘মিডল অর্ডার’, যাদের ওপর ভর করে বামফ্রন্টকে উৎখাত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই নেতাদের অনেকে হয় দল ছেড়েছেন, নয়তো দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি হয়েছেন অথবা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।
২০১১ সালের ২১ জুলাই তৃণমূলের মঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিষেক ঘটে। ২৪ বছরের তরুণ নেতা থেকে ২০২১ সালে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষমতা কেবল বেড়েছে।
রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত: অভিষেকের ‘কর্পোরেট’ ঘরানার রাজনীতি এবং ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার ডাক প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে এক অলিখিত দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।
বয়সবিধি ও ‘এক ব্যক্তি এক পদ’: অভিষেক দলে ৬৫ বছরের বয়সসীমা এবং ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি চালু করতে চেয়েছিলেন, যা ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রবীণ নেতাদের অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
তৃণমূলের পতনের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সংগঠনের দুই কারিগর মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগ।
মুকুল রায়: ২০১৭ সালে মুকুল রায়ের প্রস্থানে দলের ব্লক স্তরের সংগঠনে বড় ধাক্কা লাগে।
শুভেন্দু অধিকারী: ২০১৯-২০ সালে অভিষেকের সঙ্গে সংঘাতের জেরে শুভেন্দু বিজেপি-তে যোগ দেন। এই ২০২৬ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি তৃণমূলের পতনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) প্রবেশ তৃণমূলের চিরাচরিত ‘খোলা হাওয়া’র রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে। প্রবীণ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো অনেকেই এই নতুন সংস্কৃতির তীব্র বিরোধী ছিলেন। ‘মুড়ি-তেলেভাজা’র দল যখন ‘ফিশ ফ্রাই’ বা কর্পোরেট ধাঁচে চলতে শুরু করল, তখনই সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের মতো হেভিওয়েটদের পতন দলের ভাবমূর্তিকে তলানিতে নিয়ে ঠেকায়। মমতার দেওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’র মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো মানুষের মন জয় করলেও, সংগঠনের ভেতরের ক্ষত সারাতে তা ব্যর্থ হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পুরোনো ও বিশ্বস্ত ‘মিডল অর্ডার’ যখন মাঠ থেকে ছিটকে গেল, তখন অভিষেকের নেতৃত্বে নতুন কোনো বিকল্প শক্তি গড়ে উঠতে পারেনি। বরং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টার ফলে দলের পুরোনো কর্মীরা কোণঠাস্য বোধ করেছেন। ফলাফল হিসেবে, ২০২৬ সালে বাংলায় এক বড় রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল বিশ্ব।
তথ্যসূত্র: ১. আনন্দবাজার অনলাইন প্রতিবেদন - ২০২৬। ২. পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ফলাফল বুলেটিন - ০৪/০৫ মে ২০২৬।
বিশেষ প্রতিবেদক:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |