| বঙ্গাব্দ

২০২৬ নির্বাচন ও আধিপত্যবাদবিরোধী ডাক: নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার ও ১৯০০-২০২৬ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-01-2026 ইং
  • 3767937 বার পঠিত
২০২৬ নির্বাচন ও আধিপত্যবাদবিরোধী ডাক: নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার ও ১৯০০-২০২৬ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার

১৯০০ থেকে ২০২৬: আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই ও বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রহর—প্রতিটি ধাপই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক নিরন্তর সংগ্রামের সাক্ষী। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ বিদায়ের বিপ্লব পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বারবার নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রমাণ দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন তুঙ্গে উঠেছে প্রধান দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দেওয়া 'হস্তক্ষেপ প্রতিহত' করার ঘোষণা রাজনীতির ময়দানে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।

ইতিহাসের গতিপথ: ১৯০০ থেকে ২০২৪

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত সংস্কার ও অধিকার আদায়ের লড়াই। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পথ ধরে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এ দেশকে সার্বভৌমত্ব এনে দেয়। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঢেউ। ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে অর্জিত হয় এক নতুন বাংলাদেশ। সেই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশক পর ব্যালটে নেই আওয়ামী লীগের 'নৌকা' প্রতীক, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

আধিপত্যবাদকে প্রতিহতের ডাক: নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পার্শ্ববর্তী দেশের হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদকে বিদায় করার জন্য। পার্শ্ববর্তী একটি দেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে আসছে। তারা বলেছে ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আধিপত্যবাদ যদি এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তবে তাদের প্রতিহত করা হবে।"

নাহিদ ইসলাম আরও যোগ করেন, এই নির্বাচন জুলাই আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতা। শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১১ দলীয় জোট বদ্ধপরিকর।

তারেক রহমানের 'বগুড়া মিশন' ও জাইমা রহমান ফ্যাক্টর

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় অবস্থানকালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে। এদিকে, বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি মূলত তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাইমা রহমানের উপস্থিতি বিএনপির জন্য 'জেন-জি' ভোটারদের জয় করার এক বড় ট্রাম্প কার্ড।

আইসিটি বিপ্লব ও উন্নয়ন ইশতেহার

নির্বাচনী ময়দানে বিএনপি ঘোষণা করেছে ক্ষমতায় গেলে সবার জন্য 'ফ্রি ইন্টারনেট' ও ১০ লাখ আইসিটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে, পটুয়াখালী-০৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর এক বিস্তৃত উন্নয়ন ইশতেহার দিয়েছেন, যদিও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের শোকজের মুখে পড়েছেন।

২০২৬-এর শেষ মুহূর্তের প্রেক্ষাপট

আল-জাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে ভোটারদের একটি অংশ দোটানায় থাকলেও নতুন নেতৃত্ব ও আধুনিক ইশতেহারগুলো তরুণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ১৯০০ সালে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ২০২৬ সালে এসে তা রূপান্তরিত হয়েছে একটি সার্বভৌম, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তি নির্ভর 'স্মার্ট' বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং আগামী এক শতাব্দীর গণতান্ত্রিক ভাগ্য নির্ধারণের এক বিশাল মঞ্চ।


সূত্র: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী ভাষণ (৩১ জানুয়ারি ২০২৬), ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ ঘোষণা, তারেক রহমানের বগুড়া সফরের বক্তব্য, মাহদী আমিনের আইসিটি রোডম্যাপ, আল-জাজিরা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং জাতীয় আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের মানুষ সবসময় বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নাহিদ ইসলামের 'আধিপত্যবাদ প্রতিহত' করার বক্তব্য মূলত জুলাই বিপ্লবের সেই 'সার্বভৌমত্ব রক্ষার' চেতনাকেই ধারণ করে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে যে ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১১ দলীয় জোটের উত্থান এবং বিএনপির ডিজিটাল ইশতেহার ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলে গেম-চেঞ্জার হতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency