প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঘটনার সারাংশ
নিম্নচাপ কেটে গেলেও বঙ্গোপসাগর এখনো উত্তাল। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। প্রবল জোয়ারের ঢেউয়ের কারণে দ্বীপের অন্তত ১১টি হোটেল ও রিসোর্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত তিন দিনে দ্বীপে অস্বাভাবিক উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়, যার কারণে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং হোটেল-রিসোর্টের দেয়াল ভেঙে যায়। জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে, যা দ্বীপবাসীর জন্য নতুন এক দুর্যোগের ইঙ্গিত দেয়।
১. হোটেল অবকাশ
২. নোনাজল বিচ রিসোর্ট
৩. আটলান্টিক রিসোর্ট
৪. বিচ ক্যাম্প রিসোর্ট
৫. নীল হাওয়া বিচ রিসোর্ট
৬. শান্তিনিকেতন বিচ রিসোর্ট
৭. মেরিন বিচ রিসোর্ট
৮. পাখি বাবা রিসোর্ট
৯. সি-ভিউ রিসোর্ট
১০. ড্রিমার্স প্যারাডাইস রিসোর্ট
১১. সানডে বিচ রিসোর্ট
ড্রিমার্স প্যারাডাইসের ব্যবস্থাপক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “প্রতিরক্ষা দেয়াল ও কর্মচারীদের থাকার টিনশেড ঘর জোয়ারের ধাক্কায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম পাশে অন্যান্য হোটেলেও এমন ক্ষতি হয়েছে।”
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে “প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা” (Ecologically Critical Area - ECA) ঘোষণা করে। এর অধীনে হোটেল নির্মাণসহ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে সেখানে দুই শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।
পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সকল স্থাপনা আইন অমান্য করে গড়ে তোলা হয়েছে। এসব উচ্ছেদের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন,
“সেন্ট মার্টিনে জোয়ারের কারণে কিছু হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি এলাকা কীভাবে এতগুলো স্থাপনায় পূর্ণ হলো? এবং সেই অবৈধ হোটেলগুলো কীভাবে এখন ক্ষতির শিকার হয়ে পুনরায় সরকারি সহানুভূতি দাবি করে?
সেন্ট মার্টিনের বর্তমান চিত্রটি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণহীনতার উদাহরণও স্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতির কারণ তিনটি:
প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ
সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া অবকাঠামো স্থাপন
পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা
অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রকাশ ও উচ্ছেদ কার্যকর করতে হবে
ইসিএ ঘোষণার নিয়ম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
দ্বীপবাসীর নিরাপত্তায় সমুদ্র প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ
আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা হোটেল-মোটেলকে পরিবেশ সম্মত মানদণ্ডে আনতে হবে
সেন্ট মার্টিন আজ পর্যটন স্বর্গ থেকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যতক্ষণ না রাষ্ট্র তার নিজের ঘোষিত আইন কার্যকর করতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতা দ্বীপবাসীকে শাস্তি দেবে। প্রশ্ন এখন একটাই—জোয়ারের পানি ঠেকাতে আমরা কি শুধুই প্রকৃতিকে দোষ দেব, নাকি নিজেদের সিদ্ধান্তের দায়ও নেব?
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতর, ইসিএ ঘোষণাপত্র, ১৯৯৯
সেন্ট মার্টিন ইউপি ও টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমূলক বার্তা, ২০২৫
স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন, ২৮ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |