| বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের শেষ লড়াই: অভিজ্ঞতার বিপরীতে তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-01-2026 ইং
  • 4083832 বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের শেষ লড়াই: অভিজ্ঞতার বিপরীতে তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের ‘শেষ লড়াই’: তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চকর নির্বাচনি লড়াই

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঠাকুরগাঁও: হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে এখন পৌষের হাড়কাঁপানো শীত। কিন্তু সেই কুয়াশা ঢাকা প্রকৃতিতেও বইছে নির্বাচনি উত্তাপ। রোববার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) নিজ ‘খাসতালুক’ ঠাকুরগাঁওয়ে পা রেখেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানী ঢাকা থেকে জেলায় তাঁর ফেরা মাত্রই স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের জন্য এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক অগ্নিপরীক্ষা।

ফখরুলের চ্যালেঞ্জ: তারুণ্য বনাম ধর্মীয় মেরুকরণ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এবার মির্জা ফখরুলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তরুণ তুর্কি দেলাওয়ার হোসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সূক্ষ্ম ধর্মীয় মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী যেখানে দুর্নীতি ও ‘মব সন্ত্রাস’ এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতির মতো ‘স্মার্ট ইস্যু’ নিয়ে এগোচ্ছেন, সেখানে মির্জা ফখরুলের প্রধান শক্তি তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং ‘স্যার’ হিসেবে অর্জিত দীর্ঘদিনের সম্মান।

মির্জা ফখরুল নিজেও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আবেগী কণ্ঠে বলছেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।” অভিজ্ঞতার পাহাড় সমান ফখরুলের বিপরীতে জামায়াতের নবীন প্রার্থীর এই লড়াই সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দ্বিধা তৈরি করেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

ঠাকুরগাঁও তথা উত্তরের জনপদে রাজনৈতিক সচেতনতার শিকড় ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকেই বিস্তৃত। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের আন্দোলনে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনেও এই এলাকার মানুষ সবসময় আদর্শিক লড়াইকে প্রাধান্য দিয়েছে।

১৯৭১-এর পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ১৯০০ সালের সেই শোষিত কৃষকের জনপদ আজ ২০২৬ সালে এসে বিমানবন্দরের দাবি তুলছে—এটিই মূলত গত সোয়াশ’ বছরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বড় প্রতিচ্ছবি। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর প্রেক্ষাপট পাল্টে দিয়েছে অনেক পুরোনো হিসাব। যেখানে আগে বিএনপি-আওয়ামী লীগের দ্বৈরথ ছিল প্রধান, সেখানে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের মতো তৃতীয় শক্তির উত্থান ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিকে নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে।

ভোটারদের ভাবনা ও উদ্বেগের সুর

মাঠপর্যায়ের ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের নীরব আতঙ্কও কাজ করছে। সিপিবির জেলা সভাপতি ইয়াকুব আলী যেমনটি বলছেন—ধর্মীয় আবেগের অতিব্যবহারে অনেকেই শঙ্কিত। তবে শহরের রিকশাচালক থেকে শুরু করে চণ্ডিপুর গ্রামের সাধারণ ভোটার, সবাই এখন তাকিয়ে আছেন ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে। মির্জা ফখরুল কি পারবেন তাঁর শেষ লড়াইয়ে জয়ী হয়ে অভিজ্ঞতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে, নাকি তারুণ্যের জোয়ারে ঠাকুরগাঁও পাবে নতুন কোনো দিশারি?


সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) - ঠাকুরগাঁও জেলা ব্যুরো (জানুয়ারি ২০২৬)। ২. প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অনলাইন আর্কাইভ - নির্বাচনি বিশেষ প্রতিবেদন। ৩. বাংলাদেশ পলিটিক্যাল হিস্টোরি ও রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency