| বঙ্গাব্দ

বিএনপির ‘একক প্রার্থী’ কৌশল: তৃণমূলের দ্বন্দ্ব থামাতে আগাম ‘সবুজ সংকেত’—ইসি বলছে ফেব্রুয়ারি ভোট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-10-2025 ইং
  • 3030648 বার পঠিত
বিএনপির ‘একক প্রার্থী’ কৌশল: তৃণমূলের দ্বন্দ্ব থামাতে আগাম ‘সবুজ সংকেত’—ইসি বলছে ফেব্রুয়ারি ভোট
ছবির ক্যাপশন: বিএনপি

বিএনপির ‘একক প্রার্থী’ কৌশল: তৃণমূলের দ্বন্দ্ব থামাতে আগাম ‘সবুজ সংকেত’—কী বদলাবে নির্বাচনী মাঠ?

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিএনপি আসনভিত্তিক ‘একক প্রার্থী’ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় গতি এনেছে। দলীয় একাধিক নীতিনির্ধারক ও তৃণমূল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তত ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় ৭০% আসনে মাঠপর্যায় কাজের জন্য একক প্রার্থীকে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে—উদ্দেশ্য, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকার কারণে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত থামানো। মাঠের বাস্তবতায় একই পরিবারের দু’জন (বাবা-ছেলে/ভাই-বোন) প্রার্থী হওয়া, পৃথক গণসংযোগ—এসব জটিলতা কাটাতে আগাম ইঙ্গিতই এখন কৌশল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, খুব শিগগিরই প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থীকে মাঠে কাজের জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে; তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন তফসিলের পর পার্লামেন্টারি বোর্ড দেবে। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দল এখন আগাম মাঠসংগঠনে জোর দিচ্ছে, যাতে তৃণমূল বিভক্ত না থাকে। 

কেন আগাম ‘সবুজ সংকেত’ জরুরি

মাঠের অধিকাংশ আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত—এতে প্রচার পরিকল্পনা, কর্মী-ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে ব্যয় বৃদ্ধি ও অকার্যকারিতা দেখা দিচ্ছে। আগাম একক প্রার্থীর ঘোষণা (অন্তত ‘ওয়ার্কিং সিগন্যাল’) দিলে—

  • একই ব্যানার-মেসেজে সংহত ক্যাম্পেইন চালানো সম্ভব

  • অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং কমে ক্যাডার মোবিলাইজেশন সহজ হয়

  • জোট-রাজনীতিতে আসন সমন্বয় দ্রুত করা যায়

মনোনয়ন বাছাইয়ের মানদণ্ড

দলীয় সূত্রে বোঝা যায়, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, সংগঠনী সক্রিয়তা, গত কয়েক বছরের আন্দোলন-অংশগ্রহণ, নারী-যুব ও ছাত্রভিত্তির সঙ্গে যোগসূত্র, এবং নির্বাচনি অর্থায়ন সক্ষমতা—এসবই প্রধান সূচক। যেসব আসনে একাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী আছে, সেখানে একজনকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়ে বাকিদের ক্ষমতায় গেলে উপযুক্ত মূল্যায়ন—এমন আশ্বাসের রূপরেখাও আলোচনায় রয়েছে (দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিতসহ)। এই লাইনটাই সালাহউদ্দিনের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

তফসিল ও ভোটের টাইমলাইন: বিএনপির ক্যালেন্ডার কিসের ওপর দাঁড়িয়ে

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে জানিয়েছে—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ঘোষণা হতে পারে এবং ভোট আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে—এমন ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে বিএনপির হাতে মাঠে একক প্রার্থীর ক্যাম্পেইন গুছিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েক মাস সময় থাকছে। 

কেন্দ্রে কারা দেখছেন পুরো প্রক্রিয়া

দলীয় নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়ন প্রক্রিয়া সরাসরি তদারক করছেন—সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার/মিডিয়া আলাপে তিনিও এলাকার সঙ্গে প্রার্থীর নিবিড় সংযোগ, স্থানীয় সমস্যা-সমাধান সক্ষমতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সঙ্গে অর্গানিক নেটওয়ার্ক-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমেও তার সক্রিয় ভূমিকার উল্লেখ এসেছে। 

মাঠের বাস্তবতা: তৃণমূলের ‘দ্বন্দ্ব না প্রতিযোগিতা’

বরিশাল-৫, নাটোর-২, চট্টগ্রাম-১৬, ভোলা—এমন একাধিক আসনে বহুদিনের ‘নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা’ই এখন ‘দ্বন্দ্ব’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় নেতৃত্বের ভাষ্য, একক প্রার্থী ঘোষণাই এই গ্রুপিং থামাতে পারে; অন্যথায় মিত্রদলগুলো (যেমন, নিজ নিজ একক প্রার্থী ঠিক করে মাঠে নেমে পড়া) এগিয়ে থাকবে। কেন্দ্র ইতিমধ্যে পারিবারিক একাধিক প্রার্থী থাকা আসনগুলোতে একই পরিবার থেকে একাধিক আসন নয়—এমন নীতিগত বার্তাও দিয়েছে বলে নেতারা জানান। (মাঠসংশ্লিষ্ট বর্ণনা: প্রতিবেদকের নিজস্ব সংকলন; ওপরের রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র/বিবৃতির প্রেক্ষিত যাচাই: সালাহউদ্দিনের ব্রিফিং) 

ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ

  • বহু প্রার্থী–এক মঞ্চ: আগাম ‘ওয়ার্কিং সিগন্যাল’ দেওয়ার পরেও কেউ নির্দেশনা না মানলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা—এতে তাৎক্ষণিক অসন্তোষের ঝুঁকি আছে।

  • জোট সমন্বয়: মিত্রদলগুলোর প্রার্থী তালিকা হাতে এলেও আসন ছাড় কতটুকু হবে—এ নিয়ে দেরি হলে গ্রাউন্ড-ক্যাম্পেইনে ফাঁক পড়তে পারে।

  • টাইমিং-প্রেশার: ইসির ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডিসেম্বর তফসিল—ফেব্রুয়ারি ভোট; আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকেই মাঠে ‘এক বার্তা’ না গেলে প্রতিপক্ষের ফাস্ট-মুভার অ্যাডভান্টেজ তৈরি হতে পারে। 

বড় চিত্র: ২০২৪-২৫ পরবর্তী জাতীয় রাজনীতি

ইন্টারিম সরকারের সময়ে নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ, দলগুলোর স্বাধীন প্রচার, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা—সবই এখন বড় আলোচ্য। আন্তর্জাতিক মাধ্যমে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ও দলের পুনর্গঠন প্রসঙ্গ উঠে এসেছে; ফলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ একক প্রার্থী কৌশল কেবল দলীয় ঐক্য নয়, আন্তর্জাতিক বার্তাও দিচ্ছে—তারা ‘সুশৃঙ্খল ও প্রতিযোগিতামুখী’ নির্বাচন চায়। 


কী হতে পারে পরের ধাপ—এক নজরে (নির্বাচনী মাইলস্টোন)

  • সেপ্টে–অক্টোবর: আসন অনুযায়ী ‘ওয়ার্কিং সিগন্যাল’ সম্পন্ন, গ্রাউন্ড টিম/মাইক্রো-টার্গেটিং বরাদ্দ

  • অক্টো–নভেম্বর: জোট সমন্বয়, ম্যানিফেস্টো-ড্রাফট, ইস্যু-ম্যাট্রিক্স (দাম, বেকারত্ব, প্রশাসনিক সংস্কার)

  • ডিসেম্বর (তফসিল): পার্লামেন্টারি বোর্ডে চূড়ান্ত মনোনয়ন, আপিল-ডিসপোজাল

  • জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি: স্টার-ক্যাম্পেইন, বুথ-স্তরের GOTV (Get-Out-The-Vote) অপারেশন, শেষ সপ্তাহে নির্বাচনী ‘নিশানাবাজি’

(টাইমলাইনটি ইসির ঘোষিত জানানা/ইঙ্গিতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত) 

সূত্র

  1. Dhaka Tribune — “Salahuddin: BNP to soon give the ‘green signal’ to a single candidate in each constituency”, ৩ অক্টোবর ২০২৫। 

  2. Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS) — “CEC: JS polls in first half of February; schedule in early December”, ৯ আগস্ট ২০২৫। 

  3. India Today/Press Trust of India — “Next Bangladesh general election set for Feb 2026 before Ramzan”, ৫ আগস্ট ২০২৫। 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency