আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ স্টাইলে পূর্ণাঙ্গ কন্টেন্টটি নিচে দেওয়া হলো:
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ঐতিহাসিক গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশবাসীকে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের উদাত্ত আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান তার বার্তায় বলেন, আজ জাতি এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ হলো একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের ব্লু-প্রিন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, "গণভোট মানে জনগণের সরাসরি মতামত এবং জনগণ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রব্যবস্থা। অন্যায় ও স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।"
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে:
‘হ্যাঁ’ ভোট মানে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা।
‘হ্যাঁ’ ভোট মানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
‘হ্যাঁ’ ভোট মানে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ইনসাফভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
বাংলার রাজনৈতিক আকাশে গণভোট ও অধিকার আদায়ের লড়াই নতুন নয়। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখেছে।
১৯৭১ ও ১৯৭৭: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালেও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে গণভোট হয়েছে।
২০২৪-২৬: দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশের সূর্য উদিত হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে ২৫টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ তৈরি করে। এই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা দিতেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট (গোলাপি ব্যালটে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আজ ১০ জানুয়ারি একদিকে যখন প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটের প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। উল্লেখ্য যে, এই গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চান কি না। ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে আহ্বান জানান, "আপনার একটি ভোটই হতে পারে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার।"
রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ১২ ফেব্রুয়ারির এই জোড়া ভোট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ব্যানার প্রদর্শন করা হচ্ছে যাতে ভোটাররা এই সংস্কারগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারেন।
সূত্র: ১. ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ (১০ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গণভোট সংক্রান্ত পরিপত্র-১ (২০২৫)। ৩. ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্যাজেট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |