| বঙ্গাব্দ

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ: ১৯৫০-২০২৫ আইনি বিবর্তনের প্রেক্ষাপট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-01-2026 ইং
  • 1877457 বার পঠিত
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ: ১৯৫০-২০২৫ আইনি বিবর্তনের প্রেক্ষাপট
ছবির ক্যাপশন: আরশাদুর রউফ

দেশের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ: আইনি অঙ্গনে বড় রদবদল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবারও বড় পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশে বলা হয়, তিনি নিয়মিত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যে কারণে এই নিয়োগ

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। জানা গেছে, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করেছেন। আইন পেশার পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই শীর্ষ সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

পটভূমি: ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও আইনি পরিক্রমা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এক বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ৭ আগস্ট তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পদত্যাগ করেন। পরদিন ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০২৫ সালের শুরুতেই এই পদে আবারও পরিবর্তন আসলো, যা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

অ্যাটর্নি জেনারেল পদের বিবর্তন: ১৯৫০ থেকে ২০২৫

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদের ইতিহাস ও গুরুত্ব বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ১৯৫০-এর দশকে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে এই পদের যে কাঠামো ছিল, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেটিকে আরও শক্তিশালী করেন।

  • ১৯৫০-এর দশক: তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অ্যাডভোকেট জেনারেল পদটি ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে আইনি লড়াইয়ে এই পদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

  • ১৯৭১ উত্তর কাল: স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান এম এইচ খন্দকার।

  • রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিচার বিভাগ: ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

  • বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৪-২৫): গত বছরের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার যে দাবি উঠেছে, আরশাদুর রউফের এই নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

বক্তা ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

আইন অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের মতে, অ্যাটর্নি জেনারেল পদটি কোনো রাজনৈতিক পদ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদ। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সিনিয়র সদস্য বলেন, "আসাদুজ্জামান সাহেব সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে নির্বাচনের জন্য পদত্যাগ করা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অধিকার। এখন আরশাদুর রউফ সাহেবের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা।"

একনজরে সাম্প্রতিক রদবদল

তারিখঘটনাফলাফল
৫ আগস্ট ২০২৪শেখ হাসিনার পদত্যাগঅন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার শুরু।
৭ আগস্ট ২০২৪এ এম আমিন উদ্দিনের পদত্যাগআইনি শূন্যতা সৃষ্টি।
৮ আগস্ট ২০২৪মো. আসাদুজ্জামানের নিয়োগ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৪মো. আসাদুজ্জামানের পদত্যাগনির্বাচনের লক্ষ্যে পদত্যাগ।
১ জানুয়ারি ২০২৫আরশাদুর রউফের নিয়োগভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব লাভ।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিনে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ মোট চার জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, যা বিচার বিভাগে শুদ্ধি অভিযানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের এই নতুন শুরুতে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।


সূত্র: ১. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন।

২. সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশ আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক নথি।

৩. গুগল নিউজ ও সমসাময়িক জাতীয় সংবাদ সংস্থা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency