“দুই মাস অনিশ্চয়তায় — তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বললেন: ‘আমি কখন নামব, জানি না’”
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা: রাজনৈতিক ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি” শীর্ষক সংলাপে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এমন মন্তব্য করেন, “গত দুই মাস ধরে আমি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি যে আমি কখন নেমে যাই। মানে আমি কখন নামব, আমি জানি না।”
সংলাপের আয়োজক ছিল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস), সহযোগি ছিল যুক্তরাজ্য সরকার ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।
মাস ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, বিশেষ করে মে মাস থেকে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি দলে দলে বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো উচিত এমনভাবে কাজ করা যেন যারা কাজ করছেন তারা বাধাহীনভাবে কাজ করতে পারে।
সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খসড়া থেকে বিল পার হতে ১৮ ধাপ রয়েছে। দুই মাস আগে তিনি প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনো দ্বিতীয় ধাপে আটকে আছে। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য উপদেষ্টারা গত বছরের আগস্টে দায়িত্ব নিয়েও কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না; তার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তিহীন অভিযোগের অংশ হিসেবে, সংলাপে উল্লেখ করা হয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিএনপি ও জামায়াত প্রশাসনিক স্থানে তাদের লোক নিয়োগ করেছে — এবং ডিসেম্বর মাস থেকে তারা অসহযোগ শুরু করেছে।
তার বক্তব্য, “আমলারা পরবর্তী সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে”—এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতাকে ইঙ্গিত করে।
তিনি বলেন, “সিভিল–মিলিটারি আমলাতন্ত্রকে ফ্যাসিস্টমুক্ত না করে মিডিয়াকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা সম্ভব নয়।”
সংলাপে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা গণমাধ্যমে অনিয়ম ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ, স্বায়ত্তশাসন ও সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের কথা তুলে ধরেন—কথা বলেছিলেন কামাল আহমেদ (গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান) ও সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।
মাহফুজ আলম নতুন প্রেক্ষাপটে কাজ শুরু করেছিলেন—বিশেষ সহকারী হিসেবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট এবং পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিজ দায়িত্ববোধের দ্বন্দ্বকে সামনে আনে। একজন উপদেষ্টা হিসেবে কোনো দিন পদত্যাগের আলোচনা চলমান থাকা—এটি প্রশাসনিক ও নীতিগত সংকটই নির্দেশ করে।
মিডিয়া ও সাংবাদিকতার প্রসঙ্গে এই পর্যায়ে প্রধান চ্যালেঞ্জ:
সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন — ১৮ ধাপের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া দ্রুত করণীয় হলেও দ্রুত অগ্রগতি নেই, যা অনাস্থা ও সংশয় সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অপব্যবহার — প্রশাসনিক নিয়োগ ও দলের চাপ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বাধা হিসাবে সামনে এসেছে।
সংগঠন ও বাস্তবায়ন — আইন থাকলেই কাজ শেষ নয়; প্রয়োজনে কার্যকর নজরদারি ও সংস্থান থাকা জরুরি।
জনমত ও বিশ্বাস — একজন উপদেষ্টার “কত দিন থাকব বা নামব” এমন প্রশ্ন নিজের কর্মকাল ও জনবিশ্বাস উভয়কে স্পর্শ করে।
এই ঘটনার পটভূমি পুরো রাজনীতি ও মিডিয়া ব্যবস্থার দুর্বলতা ও উদ্যোগের চরম প্রয়াসের মধ্যকার ফাঁকটিকে প্রখরভাবে চোখে আনে।
“দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি, কখন নেমে যাই” — প্রথম আলো সংবাদ প্রতিবেদন
“দুই মাস ধরে উপদেষ্টা পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি” — যুগান্তর প্রতিবেদনে
“অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনে লোক নিয়োগ, ডিসেম্বর থেকে অসহযোগ” — The Business Standard রিপোর্ট
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |