লেখক ও গবেষক বদরুদ্দীন উমর আর নেই
লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর একটি স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে বদরুদ্দীন উমর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রায় ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন। তবে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন।
বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতনামা মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ও ইসলামি চিন্তাবিদ।
আবুল হাশিম বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাংলায় মুসলিম লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ১৯৪৭ সালে প্রস্তাবিত ‘অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা’ পরিকল্পনার অন্যতম রূপকার ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পূর্ববঙ্গে চলে আসেন এবং ভাষা আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৪৮ সালে বর্ধমান টাউন স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন।
১৯৫০ সালে বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (PPE) ডিগ্রি অর্জন করেন।
ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে তার লেখা বইগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করে।
‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬)
‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭)
‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)
এই বইগুলো বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় নতুন ধারা সৃষ্টি করে। তিনি শুধু লেখালেখি নয়, নীতিগত কারণে সরকারি চাকরি থেকেও ইস্তফা দেন।
বদরুদ্দীন উমর ছিলেন মুক্তচিন্তার প্রবক্তা। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে তিনি সবসময় রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন। তিনি ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে অসংখ্য বই লিখেছেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিবৃতি
পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও হাসপাতাল সূত্র
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও উইকিপিডিয়া আর্কাইভ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |