| বঙ্গাব্দ

বিশ্বনেতাদের শোকবার্তা: চীন-ভারত ও বৈশ্বিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক প্রভাব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-12-2025 ইং
  • 2868203 বার পঠিত
বিশ্বনেতাদের শোকবার্তা: চীন-ভারত ও বৈশ্বিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক প্রভাব
ছবির ক্যাপশন: বিশ্বনেতাদের শোকবার্তা

বিশ্বমঞ্চে শোকের ছায়া: চীন-ভারতসহ বিশ্বনেতাদের শোকবার্তায় সিক্ত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির এক অপূরণীয় নক্ষত্র, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিশ্বনেতারা। ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বীজ রোপিত হয়েছিল, দীর্ঘ ৭৫ বছরের সেই পরিক্রমা শেষে আজ এক মহাপ্রস্থানে দেশনেত্রী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিরবিদায়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী চীন এবং প্রতিবেশী ভারতের পক্ষ থেকে আসা গভীর শোকবার্তা তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ দিচ্ছে।

চীনের শোকবার্তা: অটুট সম্পর্কের অঙ্গীকার

বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে চীন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একটি বিশেষ শোকবার্তা পাঠান। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, "বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান চীনের জনগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে।" রাষ্ট্রদূত আরও নিশ্চিত করেছেন যে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেও তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্কের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

গুগল এনালাইসিস অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার শাসনামলে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছিল, আজকের এই বার্তা সেই ঐতিহাসিক বন্ধনকেই পুনর্নিশ্চিত করল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোকের আবহ

কেবল চীন নয়, পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা আসছেন। ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের এই সুদীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক নেতার বিদায়ে এমন বৈশ্বিক শোক এর আগে খুব কমই দেখা গেছে।

১৯৫০-২০২৫: এক আপসহীন নেত্রীর রাজনৈতিক প্রোফাইল

১৯৫০-এর দশকে বেড়ে ওঠা খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত তাঁর আদর্শিক উপস্থিতি ছিল অনস্বীকার্য। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রয়াণকে বিশ্লেষকরা ১৯৫০-এর স্বাধিকার আন্দোলনের এক চূড়ান্ত মহাপ্রয়াণ হিসেবে দেখছেন।

জানাজা ও নিরাপত্তার বিশাল প্রস্তুতি

বুধবার বাদ জোহর বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। মরদেহবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পোশাক শিল্পে ছুটি ও অর্থনৈতিক অবদান

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিজিএমইএ বুধবার সকল পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তাঁর নেওয়া মুক্তবাজার অর্থনীতির সাহসী সিদ্ধান্তগুলোই আজ বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির এই ক্রান্তিলগ্নে ২০২৫ সালের এই বিদায়বেলা কেবল একটি রাজনৈতিক শোক নয়, বরং এটি একটি যুগের অবসান। শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাঁর সমাহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়ের।


তথ্যসূত্র: ১. চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন কর্তৃক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা। ২. বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্রিফিং (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. গুগল নিউজ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency