জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত
৩ আগস্ট, ২০২৬
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ৪০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ইউনিটটি সচল হওয়ার মাধ্যমে ৫২৫ মেগাওয়াট সর্বমোট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
ঘন ঘন যান্ত্রিক জটিলতা এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ৫২৫ মেগাওয়াটের সক্ষমতা থাকলেও এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে কখনোই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক বন্ধ ও চালু: গত ১ আগস্ট ভোর ৫:৫০ মিনিটে বন্ধ হওয়া ১২৫ মেগাওয়াটের ১নং ইউনিটটি ৪০ ঘণ্টার চেষ্টায় ৩ আগস্ট রাত ১:৩০ মিনিটে পুনরায় চালুর পর ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদন করছে।
বর্তমান মোট উৎপাদন: ৩নং ইউনিট (১৭৫ মেগাওয়াট) এবং ১নং ইউনিট (৫৫ মেগাওয়াট) মিলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে মোট ২৩০ মেগাওয়াট।
২নং ইউনিট অবহেলায় বন্ধ: ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে পুরোপুরি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে ১২৫ মেগাওয়াটের ২ নম্বর ইউনিটটি।
চীনা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা: চালকের দায়িত্বে থাকা চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হারবিন ইন্টারন্যাশনাল’ চুক্তি অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ ও ছোটখাটো যন্ত্রাংশ সরবরাহ না করায় বারবার ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ত্রুটি সারিয়ে ৩টির মধ্যে ২টি ইউনিটকে বর্তমানে উৎপাদনে রাখা সম্ভব হয়েছে:
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটভিত্তিক বর্তমান পরিস্থিতি:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • ১নং ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) : চালু (বর্তমানে উৎপাদনে ৫৫ মেগাওয়াট)। │
│ • ২নং ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) : ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে পুরোপুরি বন্ধ। │
│ • ৩নং ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট) : চালু (বর্তমানে উৎপাদনে ১৭৫ মেগাওয়াট)। │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ 🔌 মোট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: ২৩০ মেগাওয়াট (সর্বমোট সক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট) │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
২০০৬ সালে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে এই কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ৩ নম্বর ইউনিট যুক্ত করে সক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াটে নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত কয়লা থাকা সত্ত্বেও কারিগরি ত্রুটি ও নিম্নমানের মেরামতের কারণে এটি নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর - ২০২৬ সালের মে: দীর্ঘ ৭ মাস ৩ নম্বর ইউনিটের ওভারহলিং কাজ করার মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৫ মে) বিয়ারিং নষ্ট হয়ে তা পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়, যা সংস্কারের পর ২৩ জুন চালু করা হয়।
২০২৬ সালের এপ্রিল: বয়লার পাইপ ফেটে ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে পুরো কেন্দ্রের উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে।
চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হারবিন ইন্টারন্যাশনাল’ চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করার ফলেই দেশের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিড কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |