| বঙ্গাব্দ

ট্রিপস চুক্তির শঙ্কা: এক হাজার ওষুধ আটকে, দাম বাড়ার আশঙ্কা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-08-2025 ইং
  • 3499064 বার পঠিত
ট্রিপস চুক্তির শঙ্কা: এক হাজার ওষুধ আটকে, দাম বাড়ার আশঙ্কা
ছবির ক্যাপশন: ট্রিপস চুক্তির শঙ্কা: এক হাজার ওষুধ আটকে, দাম বাড়ার আশঙ্কা

ট্রিপস চুক্তির শঙ্কা: এক হাজার ওষুধ আটকে, ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন | মতবিনিময় সভা, ঢাকা

বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার নতুন ওষুধ নিবন্ধনের অপেক্ষায় আটকে আছে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে, যার ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই উচ্চ হারে রয়্যালটি দিতে হতে পারে। এর ফলে ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওষুধ শিল্পের নেতারা।

আজ শনিবার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতিবাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় খাত সংশ্লিষ্টরা এমন মন্তব্য করেন।

সভায় যারা ছিলেন:

  • ডা. মো. জাকির হোসেন, মহাসচিব, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি ও এমডি, ডেল্টা ফার্মা

  • এম মোসাদ্দেক হোসেন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি ও চেয়ারম্যান, ইউনিমেড ইউনিহেলথ

  • সৈয়দ কায়সার কবির, এমডি ও সিইও, রেনাটা

  • মেজর জে. (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সিইও, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি

  • মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ ও সিইও, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস

কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

ডা. জাকির হোসেন জানান,

“২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হবে। তখন আমাদের ট্রিপস (TRIPS) চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। ফলে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে পেটেন্ট ও রয়্যালটি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ গুণতে হবে।”

কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওষুধ শিল্প?

সৈয়দ কায়সার কবির বলেন:

“এই উত্তরণ শুধু ওষুধ শিল্প নয়, পুরো দেশের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রিপস সুবিধা হারানো মানে হলো—

১. আন্তর্জাতিক পেটেন্ট থেকে সুবিধা বঞ্চিত হওয়া
২. স্বল্প সুদের ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ হারানো
৩. ওষুধ উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বাড়া”

তিনি আরও বলেন, “কম্বোডিয়া ও সেনেগালের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, তারা সময় নিয়ে গ্র্যাজুয়েট হয়েছে। বাংলাদেশে সে মনোভাব এখনো গড়ে ওঠেনি।”

এপিআই শিল্পপার্কের অচলাবস্থা

২০০৮ সালে মুন্সীগঞ্জের বাউসিয়ায় স্থাপিত হয় API শিল্পপার্ক, ওষুধের মূল কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য। কিন্তু গত ১৫ বছরে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে।

বড় বাধাগুলো:

  • প্লট আকার ছোট, চীনা প্রযুক্তির উপযোগী নয়

  • গ্যাস সরবরাহ নেই

  • স্টোরেজ ও সলভেন্সি সুবিধা সীমিত

ডা. জাকির বলেন,

“আমরা চেষ্টা করছি কিছু প্লট একত্র করে কয়েকটি কোম্পানিকে কাজের সুযোগ দিতে। আশা করছি, ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১০–১২টি কারখানা চালু হবে।”

টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

এদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জাতীয় পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নে উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। উদ্দেশ্য—ওষুধ সহজলভ্য ও জনগণের আয়ত্তে রাখা।

 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০–২০২৫

  • ১৯৭১ সালের পর ওষুধ শিল্প রাষ্ট্রীয়ভাবে অগ্রাধিকার পায়।

  • ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিমালা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

  • ২০০১ সালে TRIPS চুক্তিতে LDC দেশ হিসেবে ছাড় পাওয়া যায়, যার মেয়াদ এখন শেষপ্রায়।

ব্যবসায়ীদের দাবি

“বর্তমান সরকার না পারলে, নির্বাচিত সরকার যেন অন্তত বাংলাদেশকে গ্র্যাজুয়েশনের প্রক্রিয়া ২০২9 পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়, এতে করে শিল্প খাত একটু সময় পাবে।”—সভায় একাধিক বক্তার অভিন্ন বক্তব্য

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency