প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথের লড়াই এবং জেল-জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই বিজয়কে ‘বাংলাদেশের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মির্জা ফখরুল তার পোস্টে দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি। দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রামের পর আজকের এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়।" তিনি তার বার্তায় আন্দোলনের সকল শহীদ ও নিখোঁজ নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
বার্তার মূল অংশগুলো:
নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা: তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
শহীদদের স্মরণ: জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, "যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ, তাদের ঋণ পরিশোধ করার নয়।" তিনি গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলী, সুমনসহ হাজারো নেতাকর্মীকে স্মরণ করেন।
সর্বজনীন ধন্যবাদ: হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসীসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণকে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ দেন।
ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার: মির্জা ফখরুল বলেন, "দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি এবং আপনাদের জন্য কাজ করতে পারি।"
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এই ভূখণ্ডটি ছিল সংগ্রামের চারণভূমি।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ শাসনামলে অধিকার আদায়ের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৭-এ দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।
১৯৫২ - ১৯৭১: ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-র গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত রূপ ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।
১৯৯০ - ২০২৪: ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির অগ্রণী ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রাজপথে থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হয়।
২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৫ সাল জুড়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মহাউৎসব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ মনে করেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি দীর্ঘ নিপীড়িত একটি দলের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিচ্ছবি। বক্তারা বলছেন, "রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তবে পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে নির্বাচন হয় না; মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, সেটাকেই সম্মান জানাতে হবে।" মির্জা ফখরুলের বার্তায় সেই ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| আন্দোলনের সময়কাল | দীর্ঘ ১৭ বছর (২০০৯ - ২০২৬) |
| প্রধান নেতৃত্ব | তারেক রহমান (চেয়ারম্যান), মির্জা ফখরুল (মহাসচিব) |
| রাজনৈতিক মোড় | ৫ আগস্ট ২০২৪ (ছাত্র-জনতার বিপ্লব) |
| নির্বাচনের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| মূল অঙ্গীকার | জনগণের সেবা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা |
সূত্র: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল আর্কাইভ, বাসস (BSS) এবং ঐতিহাসিক দলিল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |