প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তৃণমূলের ভালোবাসা আর নেতাকর্মীদের গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল। দীর্ঘ ১৮ বছরের কারাবাস আর আইনি লড়াই শেষে রাজনীতির ময়দানে ফিরে এসেই অভাবনীয় চমক দেখালেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি এখন ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত। এই বিপুল বিজয়ের পর এখন নেত্রকোনাবাসীর একটাই দাবি— ‘জননেতা লুৎফুজ্জামান বাবরকে নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, নেত্রকোনা-৪ আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ৩০৭টি। এতে লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আল হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট। অর্থাৎ ১ লাখ ২১ হাজার ৪২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বাবর।
বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মদন ও মোহনগঞ্জে বাবরের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। গান আর স্লোগানে তাকে অভিনন্দন জানান সমর্থকরা। মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার ও সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “বাবর ভাই একজন সৎ ও নীতিবান মানুষ। দেশের ক্রান্তিলগ্নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার মতো দক্ষ নেতার প্রয়োজন। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য নতুন সরকারে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার জোর দাবি জানাচ্ছি।” একই দাবি জানিয়েছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্নায়েন।
জনগণ ও নেতাকর্মীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে লুৎফুজ্জামান বাবর বিনয়ের সঙ্গে বলেন,
“আমি কখনও পদ-পদবির জন্য কোনো আবদার করিনি। তবে দল ও আমার নেতা তারেক রহমান যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, তবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করব। আমাদের নেতার দেওয়া ‘৩১ দফা’ আমি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। যারা আমাকে ভোট দিয়ে ঋণী করেছেন, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিংশ শতাব্দীর শুরুর (১৯০০ সাল) সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচার পতনের পর ২০০১ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর প্রথমবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ বিরতি এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে বলা হচ্ছে ‘শোষণমুক্ত বাংলাদেশের সূচনা’। বাবর কারামুক্ত হয়ে যেভাবে জনরায়ে বিজয়ী হলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক মিশন এবারের নির্বাচনকে ‘গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। ড. আলী রীয়াজের মতে, নবনির্বাচিত সদস্যরা এবার কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষক হিসেবে শপথ নেবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন। সেখানে লুৎফুজ্জামান বাবরের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার গুঞ্জন এখন সর্বত্র।
সূত্র: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় (নেত্রকোনা), যুগান্তর ডিজিটাল আর্কাইভ, এবং বাসস (BSS)।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে লুৎফুজ্জামান বাবরের বিশাল জয় এবং তৃণমূলের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তার দীর্ঘ কারাবাস এবং মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর এই জয় প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনো অক্ষুণ্ণ। নেত্রকোনার মানুষের এই ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ করার দাবি মূলত এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই উৎসারিত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |