| বঙ্গাব্দ

গাজায় ত্রাণ আটকে, জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-07-2025 ইং
  • 4468929 বার পঠিত
গাজায় ত্রাণ আটকে, জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ
ছবির ক্যাপশন: জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

গাজায় ত্রাণ আটকে, জাতিসংঘ বলছে—অবস্থার ভয়াবহতা বাড়ছে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
স্থান: নিউইয়র্ক/জেরুজালেম/গাজা | তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫


গাজা উপত্যকায় চরম মানবিক সংকটের মধ্যে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা জানে না ঠিক কতটি ত্রাণবাহী ট্রাক সীমান্তে আটকে আছে, কারণ ইসরায়েল এখনো তাদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা অফিস (OCHA)-এর মুখপাত্র জেন্স লারকে বৃহস্পতিবার বলেন, “আমরা বহুবার অনুরোধ করেও এখনো সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি পাইনি। সেখানে আমাদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এলাকা সামরিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।”

ত্রাণ বাধাগ্রস্ত, দুর্ভিক্ষের ছায়া গাজায়

জাতিসংঘের মতে, একাধিক নিরাপত্তা অনুমতির অভাবে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে ত্রাণ প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি মানবিক সংস্থাগুলোকে ট্রাক পাঠাতেও অনুমতির প্রয়োজন পড়ে দুই স্তরে।

জেন্স লারকে বলেন, “ত্রাণ শুধু পাঠানোর অনুমতি নয়, সেটি বিতরণ করতে গিয়েও সামরিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। যদি পক্ষগুলো দায়িত্বশীলভাবে আচরণ না করে, তাহলে বড় পরিসরে ও নিরাপদভাবে ত্রাণ সরবরাহ সম্ভব নয়।”

জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা

  • জাতিসংঘ বলছে, জিএইচএফ (Gaza Humanitarian Foundation) নামে একটি বেসরকারি সংগঠন খাদ্য বিতরণ শুরু করলেও, এদের কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার সময় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

  • ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে জাতিসংঘের সহায়তা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

  • ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, গাজার সীমানায় ৯৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে। তবে জাতিসংঘ তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

 বিতর্কিত প্রস্তাব ও সতর্কবার্তা

জিএইচএফ তাদের ত্রাণ কার্যক্রমকে সরাসরি পরিচালনার প্রস্তাব দিলেও জাতিসংঘসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জাতিসংঘের ভাষায়, “এই সংস্থাটি ইসরায়েলি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।”

জাতিসংঘ আরও জানায়, শুধুমাত্র জিএইচএফের কেন্দ্রের আশপাশেই ১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের তিন-চতুর্থাংশ খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী আটকে:

  • ৬,০০০+ ট্রাক খাবার ও ওষুধ নিয়ে জর্দান ও মিসরে অপেক্ষা করছে, তবে ২ মার্চের পর থেকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আর কোনো ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেনি।

  • ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র জুলিয়েট তৌমা বলেন, “গাজায় আমাদের আগে ৪০০টির মতো কেন্দ্র ছিল। জিএইচএফের আছে মাত্র চারটি। এতটুকু দিয়ে দুর্ভিক্ষ ঠেকানো অসম্ভব।”

পটভূমি:

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা অবরোধ করে রাখে। ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ২ মার্চ থেকে একপ্রকার পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। এরই মধ্যে গাজায় দুর্ভিক্ষ, চিকিৎসার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিহতের সংখ্যা ৩৭,০০০ ছাড়িয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু (সূত্র: OCHA, Al Jazeera, UNRWA)।

সারসংক্ষেপে

  • জাতিসংঘ জানে না ঠিক কতগুলো ত্রাণ ট্রাক আটকে আছে

  • ইসরায়েলের একাধিক নিরাপত্তা অনুমতির কারণে ত্রাণ পৌঁছানো বন্ধ

  • জিএইচএফ-এর বিতরণ কেন্দ্র ঘিরে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত

  • জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাপক দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাস’ হিসেবে চিহ্নিত করছে

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency