স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ হবে না, জানালেন স্বরাষ্ট্র সচিব
এ বছর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। রোববার (১৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবস এবং আসন্ন ঈদের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ এবার অনুষ্ঠিত না হওয়ার পেছনে কোনো বিশেষ কারণের উল্লেখ না থাকলেও, তা করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্বের কারণে হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে, এই সিদ্ধান্ত দেশের জনগণকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সচেতন থাকতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, সভায় ঈদ উপলক্ষে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ঈদকে ঘিরে যেন কোনো শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সে কারণে সরকার ঈদের আগেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করার নির্দেশনা দিয়েছে। একইসাথে, তৈরি পোশাক খাতের সংগঠনগুলোকে শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ঈদে শ্রমিকদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাধীনতা দিবস এবং ঈদ উপলক্ষে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “ঝুঁকি সব সময়ই থাকে, তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধসহ জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
সরকার এই সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে যাতে তারা ঈদ এবং স্বাধীনতা দিবসের সময়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হয়। বিশেষ করে, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো তৎপর থাকবে।
স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ না হওয়ার বিষয়টি এবার উল্লেখযোগ্য, কারণ প্রতি বছর ২৬ মার্চ দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। তবে, এবার বিজয় দিবসের মতো স্বাধীনতা দিবসেও এই ধরনের কোনো আয়োজন হবে না।
স্বাধীনতা দিবসের মূল আয়োজনটি সাধারণত কুচকাওয়াজ, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। তবে এবার কুচকাওয়াজের পরিবর্তে অন্য ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব সঠিকভাবে পালন করা হবে।
এছাড়া, স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন এবং তা দেশের জনগণের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করে থাকে। তবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এবারের অনুষ্ঠানগুলো সীমিত আকারে হতে পারে।
স্বাধীনতা দিবস এবং ঈদ উভয় উপলক্ষ্যে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে যাতে ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের সময়ে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে সচেতনতার পাশাপাশি সহনশীলতারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন সবাই স্বাধীনতা দিবসের ও ঈদের আনন্দে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে।
ফলে, দেশবাসীকে ঈদ এবং স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে বলা হচ্ছে, তবে স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |