প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারে হাত দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে শিল্পকলা ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুমোদনের ফলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিরসন হবে। সংশোধিত আইনে ‘ডাটা লোকালাইজেশন’ সংক্রান্ত কঠোর বিধান শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (CII) সংক্রান্ত তথ্য দেশে রাখা বাধ্যতামূলক থাকবে। এছাড়া, কোম্পানির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা ক্লাউডভিত্তিক সেবা ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় একাডেমির বিভাগ সংখ্যা বাড়িয়ে ৯টি করা হয়েছে, যেখানে নিউ মিডিয়া, কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও পারফরম্যান্স আর্টের মতো আধুনিক বিষয়গুলো যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯৫৯ সালের পুরনো আইন বাতিল করে ‘বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। শফিকুল আলম জানান, বনজ শিল্প করপোরেশন গত অর্থবছরে ৫৩ কোটি টাকা লাভ করেছে এবং রাবার শিল্পে প্রথমবারের মতো ৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। নতুন আইনে বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও শোরুম স্থাপনের মাধ্যমে একে আরও লাভজনক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলার প্রশাসনিক সংস্কারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ শাসনামলে অধিকাংশ আইনি কাঠামো গড়ে উঠেছিল যা ছিল ঔপনিবেশিক শাসনমুখী।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানের মাধ্যমে দেশীয় আইনি ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পুরনো অধ্যাদেশ বলবৎ ছিল। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু সংস্কার হলেও প্রযুক্তি ও পরিবেশ রক্ষায় তা পর্যাপ্ত ছিল না।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে ‘এনডিসি-৩’ অনুমোদন জলবায়ু পরিবর্তনের লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় করবে।
বৈঠকে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাজ আরও গতিশীল ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ২০২৬ সালের এই সংস্কারগুলো একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র বিনির্মাণে সহায়ক হবে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিশেষ বুলেটিন। ২. প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এনডিসি-৩ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |