নির্বাচনকে রক্ষা করা যাবে কি’: তিন ভুয়া ভোটের পর সারোয়ার তুষারের প্রশ্নে নতুন উদ্বেগ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে, তখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের একটি টিভি টক শো-তে করা প্রশ্ন নতুন করে আলোচনা ছড়িয়েছে—
“নির্বাচনকে রক্ষা করা যাবে কি?”
তিনি অভিযোগ করেছেন, ধারাবাহিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু কথার ফুলঝুড়ি ছুড়লে নির্বাচনকে আর রক্ষা করা যাবে না। তিনটি “ভুয়া নির্বাচন”–এর অভিজ্ঞতার পর দেশের মানুষ আর ঠকতে চায় না—এমনটাই তাঁর অবস্থান।
সাম্প্রতিক এক বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে সারোয়ার তুষার বলেন, শুধু ঘোষণা দিলেই হয় না, ধারাবাহিকভাবে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়, যাতে ভোটার ও নাগরিকদের মনে স্বস্তি তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ,
তিনটি ভুয়া নির্বাচনের পরে এবার যে নির্বাচন আয়োজনের কথা হচ্ছে, সেখানে এখনো এমন কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেই, যা দেখে মানুষ স্বস্তি পেতে পারে।
তাঁর ইঙ্গিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিকে—যে নির্বাচনগুলো দেশি–বিদেশি অনেক পর্যবেক্ষকের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ২০১৪ সালের ভোটে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে ভোটাররা ভোটই দিতে পারেননি; এসব আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, ব্যালট পেপার আগের রাতে ভরে রাখাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ভোট আবারও কঠোর দমন–পীড়ন, বিরোধীদলের গ্রেপ্তার, কম টার্নআউট ও একতরফা ফলাফলের কারণে আন্তর্জাতিক মহলের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে।
সারোয়ার তুষারের ভাষ্য, এই তিন ভোটের অভিজ্ঞতার পর সাধারণ মানুষ এখন একটা সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাচ্ছে—কিন্তু মাঠের বাস্তবতা এখনও সে রকম নয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস গত এক বছরে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন—
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে “সেরা নির্বাচন”
এই নির্বাচন হবে “দেশ রক্ষা নির্বাচন”, অর্থাৎ রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কেন্দ্রীয় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
নির্বাচন ও সুবিশাল সাংবিধানিক সংস্কারের জন্যই জুলাই চার্টার, যার ওপর গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে
আন্তর্জাতিক ফোরামেও তিনি বলেছেন, ১৭ বছরের মধ্যে এবারই “সত্যিকারের নির্বাচন” হতে যাচ্ছে এবং এটি হবে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের মাইলফলক।
কিন্তু সারোয়ার তুষারের প্রশ্ন—
“এত কথা বলা হচ্ছে ‘ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন’ নিয়ে, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি কি অন্তত একটি স্ট্যান্ডার্ড সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো? নাকি আবারও ক্ষমতার রাজনীতিই সবকিছু নির্ধারণ করবে?”
তার মতে, নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে “দেশ রক্ষা নির্বাচন” বানাতে হলে কেবল বক্তৃতা নয়, বাস্তবে বিশ্বাসযোগ্য শর্ত তৈরি করতে হবে—যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে, প্রশাসন থাকবে নিরপেক্ষ, আর ভোটাররা ভয়হীনভাবে ভোট দিতে পারবে।
সারোয়ার তুষার যেটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা হলো বড় দলগুলোর “পেশিশক্তির প্রদর্শন”। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী—
বিভিন্ন জায়গায় দলীয় সমর্থকদের বিশাল বাইক শোডাউন চলছে
এসব শোডাউনের সঙ্গে যুক্ত সহিংসতায় সারা দেশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে—এমন তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে
এক সভায় জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে প্রকাশ্যেই শোনা গেছে—
“আমাদের আন্ডারে পুরো প্রশাসনকে আনতে হবে”
“আমাদের কথামতো গ্রেফতার হবে, মামলা হবে, প্রোটোকলও আমাদের দিতে হবে”
তুষারের ব্যাখ্যায়, এই ধরনের ঘোষণা নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ করে; অথচ কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আগে প্রশাসনের উচিত থাকে নিরপেক্ষ থাকার বার্তা দেওয়া।
আরও উদ্বেগের জায়গা হলো,
এই বক্তব্য নিয়ে জাতির সামনে আলোচনা হলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিবাদ প্রকাশ্যে দেখা যায়নি—এ অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)। দলটি নিজেদের “তরুণদের দল” ও “ব্যবস্থাপনা সংস্কারের পক্ষে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে তুলে ধরছে।
কিন্তু এনসিপির ভেতরেও বিতর্ক কম নয়।
এ বছর জুনে “নৈতিক স্খলন”–সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে এনসিপি সারোয়ার তুষারকে শোকজ নোটিশ দিয়ে সব সাংগঠনিক কাজ থেকে সাময়িক বিরত রাখে।
দুই মাস পর আগস্টে সেই শোকজ প্রত্যাহার করে আবার দলীয় কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনা হয়।
অন্যদিকে, জুলাই চার্টার নিয়ে গণভোট ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির পক্ষ থেকে সারোয়ার তুষার বলেছেন—তারা গণভোটের সময়সূচি নিয়ে আপত্তি না করলেও প্রশ্ন তুলছেন কেন প্রধান উপদেষ্টা নিজে অধ্যাদেশ জারি করতে পারছেন না, কেন প্রেসিডেন্টের হাতে দায়িত্ব ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর “নির্বাচনকে রক্ষা করা যাবে কি” প্রশ্ন অনেকের চোখে শুধু সরকারের প্রতি নয়, নতুন ক্ষমতাকাঠামো, অন্তর্বর্তী সরকার ও পুরো রাজনৈতিক এলিট শ্রেণির প্রতিই এক ধরনের সতর্কবার্তা।
সারোয়ার তুষারের প্রশ্নকে বুঝতে হলে বাংলাদেশের গত সাত দশকের নির্বাচন–ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।
১৯৫৪: যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয় পায়।
এই ভোট বাঙালি জাতীয়তাবাদের গণজাগরণকে নতুন গতি দেয়, কিন্তু কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী ফল মেনে না নেওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে।
১৯৭০: ঐতিহাসিক নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের দ্বার
পাকিস্তানের প্রথম প্রত্যক্ষ নির্বাচন; পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া বিজয় পায়—জাতীয় পরিষদের ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি।
ফল মেনে না নেওয়া, ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি—অবশেষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা।
১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও সামরিক শাসনের সূচনা
১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয়; এর পরবর্তী সময় জুড়ে প্রায় দেড় দশক বিভিন্ন রূপে সামরিক বা অর্ধ–সামরিক শাসন চলে।
১৯৯০–৯১: গণঅভ্যুত্থান ও অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
এরশাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলের চোখে তুলনামূলক “ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার” হিসেবে পরিচিতি পায় এবং বাংলাদেশ আবার সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যায়।
১৯৯৬–২০১১: তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার উত্থান–পতন
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়, যা কয়েকটি নির্বাচন তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বাতিল হয়; এরপর থেকেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রকৃত বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে—যার সর্বশেষ পরিণতি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর বিতর্কিত ভোট।
২০২৪–২০২৫: জুলাই অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকার ও নতুন অনিশ্চয়তা
চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানে রূপ নেয়; সহিংসতায় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে; পরবর্তীতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং দলটির অফিসিয়াল নিবন্ধন ঝুলিয়ে রাখা হয়।
সাম্প্রতিক এক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট আবারও অরাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করলেও তা আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রযোজ্য হবে না—সে ভোট পরিচালনা করবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারই।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতর থেকেই সারোয়ার তুষারের প্রশ্ন ঝুলে আছে—যদি ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী শক্তির রাজনৈতিক সদিচ্ছা না বদলায়, তাহলে কাগজে–কলমে যতই “সেরা” বা “ঐতিহাসিক” নির্বাচনের কথা বলা হোক না কেন, নির্বাচনকে রক্ষা করা কতটা সম্ভব?
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সারোয়ার তুষারের উত্থাপন করা প্রশ্নকে হালকাভাবে নিলে ভবিষ্যৎ সংকট আরও গভীর হবে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতে কয়েকটি মূল ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—
পেশিশক্তির রাজনীতি
বড় বড় বাইক শোডাউন, মিছিল–মিটিং–এ আধিপত্য বিস্তার, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কর্মীদের ওপর হামলা—এসব যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ভোটের দিন ভোটাররা সহজেই ভীত হয়ে পড়তে পারে।
প্রশাসন দখলের চেষ্টা
কোনো দলের নেতা যদি প্রকাশ্যে বলেন, “প্রশাসনকে আমাদের আন্ডারে আনতে হবে, আমাদের কথামতো গ্রেফতার–মামলা হবে”—এটা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এর বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে নিরপেক্ষতার দাবি বিশ্বাসযোগ্য থাকে না।
দল–বহির্ভূত প্রেসার গ্রুপের বাড়তি প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয়, পেশাজীবী কিংবা আঞ্চলিক কিছু গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে আলাদা শক্তি তৈরি হয়েছে। এদের কেউ কেউ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলের বিকল্প “প্রেসার গ্রুপ” হিসেবে কাজ করছে—যা ভোট-পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আস্থাহীনতা ও ভোটার টার্নআউট
তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর যদি মানুষ মনে করে, “আগে থেকেই সব ঠিক করা”—তাহলে ভোটার উপস্থিতি কমে যাবে। অংশগ্রহণ কমলে কোনো নির্বাচনই নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পায় না, তা যতই আইনসম্মত হোক।
প্রথমত, আস্থার সোপান গড়া
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে খুব দ্রুত টাইম–বাউন্ড রোডম্যাপ প্রকাশ করে বলতে হবে—
কখন, কীভাবে সেনা/বিজিবি/আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হবে
রাজনৈতিক মামলা–গ্রেপ্তারের পুনর্মূল্যায়ন হবে কীভাবে
নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা হলে কী ধরনের দ্রুত বিচার কার্যকর হবে
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনি সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানো
বাইক শোডাউন বা মিছিল–মিটিং–এ সংঘটিত প্রতিটি মৃত্যু বা গুরুতর সহিংসতার ঘটনায়
দ্রুত তদন্ত
ভিডিও–সিসি–ফুটেজ ব্যবহার
দলীয় পরিচয় দেখে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ও বিচার—এসব ঘটতে হবে দৃশ্যমানভাবে।
তৃতীয়ত, প্রশাসনের ওপর সরাসরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো
নির্বাচনপূর্ব সময় থেকে মাঠ প্রশাসনকে পাবলিকলি নির্দেশ দিতে হবে—
তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ‘লোক’ নয়, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা
তাঁদের বদলি–পদায়ন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে।
চতুর্থত, সকল গুরুত্বপূর্ণ দলের ইনক্লুসিভ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকলেও বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, বাম ও মধ্যপন্থী নানা দলের অংশগ্রহণ ছাড়া এই নির্বাচন বাস্তবে “সেরা” বা “দেশ রক্ষা নির্বাচন” হয়ে উঠবে না—এটা এখন অধিকাংশ বিশ্লেষকের অভিমত।
পঞ্চমত, জুলাই চার্টার ও গণভোটের স্বচ্ছতা
যে জুলাই চার্টারকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি, বাস্তবায়ন–সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা মানুষ স্পষ্টভাবে জানতে চায়।
সারোয়ার তুষারের মতো নেতাদের প্রশ্নের জবাব রাজনৈতিকভাবে না দিয়ে কেবল আইনের ধূসর জায়গায় ফেলে রাখলে আস্থাহীনতা আরও বাড়বে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১. দৈনিক যুগান্তর – ‘নির্বাচনকে রক্ষা করা যাবে কি’ শীর্ষক প্রতিবেদন, ২৫ নভেম্বর ২০২৫; এবং একই দিন বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত টক শো–সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসমূহ।
২. আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মাধ্যম – ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেক্ষাপট: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, এপি, রয়টার্স, উইকিপিডিয়ার নির্বাচনী তথ্য, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সংবাদ।
৩. মুহাম্মদ ইউনুস ও এনসিপি–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবর – “দেশ রক্ষা নির্বাচন”, “বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন”, জুলাই চার্টার ও গণভোট, এবং এনসিপি–সম্পর্কিত বিতর্ক: অর্থসূচক, ডেইলি কমার্শিয়াল টাইমস, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসহ বিভিন্ন সূত্র।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |