খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আহসান হাবিব জানিয়েছেন,
"ছাত্রদলের সদস্যরা সদস্য সংগ্রহের জন্য ফরম বিতরণ করছিলেন। এ সময় ক্যাম্পাসে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশের দাবি তুলে কিছু শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ জানান। এতে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।"
তিনি আরও জানান,
"এক পর্যায়ে বাইরের লোকজনও এই ঘটনায় যুক্ত হয় এবং সংঘর্ষের মাত্রা বাড়তে থাকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
সংঘর্ষের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে,
"ছাত্রদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় নামব।"
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,
"বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারকে অপব্যবহার করে ছাত্রদলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।"
তারা আরও অভিযোগ করে,
"বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কিছু সশস্ত্র সদস্য ও গুপ্ত সংগঠন শিবির পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।"
ছাত্রদল রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে।
কুয়েট প্রশাসন এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
"আমরা চাই ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় থাকুক। অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক উত্তেজনা কুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে।"
বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা সীমিত থাকলেও, বিভিন্ন সময়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
"প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ক্যাম্পাসে অরাজকতা না বাড়ে।"
কুয়েটের সংঘর্ষের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি-দাওয়া কীভাবে মোকাবিলা করা হয়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |