| বঙ্গাব্দ

বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত, কৃষিই প্রধান শিল্পভিত্তি: রুহুল কবির রিজভী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-06-2026 ইং
  • 38294 বার পঠিত
বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত, কৃষিই প্রধান শিল্পভিত্তি: রুহুল কবির রিজভী
ছবির ক্যাপশন: রুহুল কবির রিজভী

মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় কৃষিতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়; দেশের ৪০% কর্মসংস্থান রক্ষায় গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান রিজভীর

জাতীয় ও অর্থনৈতিক বাজেট ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের অনস্বীকার্য গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি কার্ড একটি ভালো উদ্যোগ, তবে বরাদ্দ অপর্যাপ্ত

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে নতুন করে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। গ্রামীণ অর্থায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।

নিজের অতীত কর্মজীবনে কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের (রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী সময়েই দেশে প্রথম গ্রামীণ কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা তৎকালীন গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত করেছিল। একই সঙ্গে খালের পানি ব্যবহার, পাওয়ার টিলারের প্রসার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো বৈপ্লবিক উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নেয়।

চলতি ২০২৬-২৭ মেগা বাজেটের সমালোচনা করে রিজভী বলেন:

"বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির (Inflation) বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এই বৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে খুবই সামান্য। জাতীয় বাজেট সার্বিকভাবে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও সেই তুলনায় কৃষি খাতের ভাগ খুব একটা বাড়েনি। সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ ও কড়া নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষির কাঙ্ক্ষিত আধুনিক রূপান্তর ব্যাহত হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশই কৃষিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। তাই জিডিপিতে কৃষির অবদান বর্তমানের ৫-৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দ্রুত ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া উচিত।

আলু রপ্তানি ও আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির তাগিদ

সেমিনারে নিজের সাম্প্রতিক ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী এক বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, ভিয়েতনাম বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার অংশ হিসেবে এবার প্রথম ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নেওয়া হচ্ছে। আলুর মতো অন্যান্য কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার যদি আরও সম্প্রসারণ করা যায়, তবে দেশীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি এবং বিপণন সহজ হবে, ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য মাঠে নষ্ট হবে না।

দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। এ জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের আধুনিক ও উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি, যাতে অফ-সিজনেও সবজি ও ফলমূল দীর্ঘ সময় তাজা রাখা যায়।

নিউজিল্যান্ড-ডেনমার্কের উদাহরণ: কৃষিই হোক প্রধান শিল্প

ভারী শিল্পের কাঁচামাল বাংলাদেশে পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে রিজভী বলেন, কৃষিই হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধানতম শিল্পভিত্তি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিউজিল্যান্ড এবং ডেনমার্কের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দেশগুলো মূলত কৃষিভিত্তিক শিল্প (Agro-based Industry) গড়ে তুলেই আজ বিশ্বের বুকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশেরও এই মডেল অনুসরণের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল সহ বিশিষ্ট কৃষিবিদ ও গবেষকগণ।

এক নজরে বাজেটে কৃষি খাতের রূপরেখা ও রিজভীর প্রস্তাবনা

  • বাজেট ও কৃষি কার্ড: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪২.৫০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত।

  • বরাদ্দের ঘাটতি: সামগ্রিক বাজেট ১৭.৭% বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী কৃষি খাতের বরাদ্দ অপর্যাপ্ত।

  • কর্মসংস্থান: দেশের ৪০% কর্মসংস্থান কৃষিতে, তাই জিডিপিতে এর অবদান ৭ থেকে ৮ শতাংশে নেওয়ার দাবি।

  • রপ্তানি বাজার: ভিয়েতনামে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হচ্ছে; এই বাজার আরও বড় করার তাগিদ।

  • ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান।

স্টাফ রিপোর্টার |

২০ Running অর্থবছরের কৃষি বাজেটের খাতভিত্তিক বরাদ্দ, সার ও বীজ ভর্তুকির লাইভ আপডেট, ভিয়েতনামে আলু রপ্তানির পরবর্তী শিপমেন্টের খবর এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency