আগামীকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বর্ধিত সভা, যেটিকে অনেকেই দলের ছায়া কাউন্সিল হিসেবে দেখছেন। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সভাকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও অংশ নেবেন।
প্রায় ৪ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই সভায় দলীয় কর্মপরিকল্পনা, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য শুনবেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চ মাসে। এরপর ২০১৮ সালে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পাঁচদিন আগে রাজধানীর একটি হোটেলে জরুরি ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই সভাটি ছিল সীমিত পরিসরে এবং গ্রেফতার আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করা হয়।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ধিত সভা।
আগামীকালের সভাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দলের দায়িত্বশীল নেতারা নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করছেন। বিএনপির নেতারা জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবউন নবী খান সোহেল বলেন,
"দলের রাজনীতি মাঠে যারা করেন, তাদের মতামত আমরা গুরুত্ব দিয়ে শুনব। কীভাবে পরবর্তী কর্মসূচি সাজানো হবে, তা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে।"
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেল জানান,
"দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন মতামত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেয়া হবে। চলমান ষড়যন্ত্র দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক— সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেই কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।"
বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল এবং নতুন ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় ঐক্য বজায় রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এখন মূল লক্ষ্য।
বিএনপির ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন,
"বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কারণে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে গত ৫ আগস্টের পর আমরা সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। আগামীকালের সভায় ৪ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেবেন।"
তিনি আরও বলেন,
"আমরা সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের একটি প্রধান বার্তা থাকবে— 'সুদৃঢ় ঐক্যই রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র'।"
১. আগামী জাতীয় নির্বাচন: বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, কিংবা কী ধরনের আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
2. সংগঠন পুনর্গঠন: তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে।
3. আন্দোলনের রূপরেখা: সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
4. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে করণীয় ঠিক করা হবে।
5. দলীয় ঐক্য রক্ষা: অভ্যন্তরীণ বিভেদ এড়াতে ঐক্যের বার্তা দেয়া হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বর্ধিত সভাকে সফল করতে বিশেষ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতারা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে এই সভার জন্য অপেক্ষা করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা কী হবে, সেটি নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বর্ধিত সভা ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |