ঝিলমিলে শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ চালককে প্লট বরাদ্দ: দুদকের নজরে অনিয়ম
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার
ঢাকা:
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ প্লট বরাদ্দের তালিকায় উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ জন গাড়িচালকের নাম।
প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত এই তথ্য সামনে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্যসমাপ্ত একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযানে। বুধবার রাজউকের বিভিন্ন দপ্তরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে শেখ হাসিনার কার্যালয়ে কর্মরত ১৫ জন গাড়িচালকের জন্য তিন ও পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দের ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়।
চিঠিটিতে বলা হয়,
“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ১৫ জন গাড়িচালক কর্তৃক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্রতি দুজনের জন্য ৩ কাঠার ও তিনজনের জন্য ৫ কাঠার একটি করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হোক।”
এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান।
দুদক বলছে, ২০০৯ সালের প্লট বরাদ্দ নীতিমালার ১৩/এ ধারা অনুযায়ী কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ‘অসামান্য অবদান রাখা’ চার শ্রেণির মানুষকে বিশেষ বিবেচনায় প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট চালকদের এমন কোনও অবদানের নথি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পায়নি দুদক। ফলে তাদের প্লট বরাদ্দ নীতি বহির্ভূত বলেই ধরা হচ্ছে।
প্লটপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ভিভিআইপি ও ভিআইপি গাড়িচালক, সচিবদের ব্যক্তিগত ড্রাইভার, প্রটোকল অফিসার ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীদের চালকেরা।
দুদকের ভাষ্যমতে, এরা অধিকাংশই বিশেষ সুবিধা বা পরিচয়ের জোরে আবেদন জমা দেন এবং অনুমোদনও পান।
রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে আগেই বিতর্কিত বরাদ্দ ইস্যুতে তদন্ত চালিয়েছে দুদক। ২০০৯ সালের নীতিমালায় ৯৩৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হলেও, সেখানে নীতি অনুসরণ না করে একাধিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন,
“নীতিমালা লঙ্ঘন করে কাদের কীভাবে প্লট দেওয়া হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্লট বরাদ্দ নিয়ে এমন বিশেষ সুবিধা প্রদানের ঘটনা শুধু নীতিমালার অবমূল্যায়ন নয়, বরং তা জনসেবার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ওপর সরাসরি আঘাত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেশাগত মর্যাদাভিত্তিক হলে তা সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায়। কিন্তু পরিচয়ের ভিত্তিতে করা বরাদ্দ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প | ঝিলমিল আবাসিক, কেরানীগঞ্জ |
| বরাদ্দপ্রাপ্ত | সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ জন গাড়িচালক |
| বরাদ্দকৃত | ৩ ও ৫ কাঠার প্লট |
| অনুমোদনের চিঠি | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ |
| স্বাক্ষরকারী | যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান |
| নীতিমালা লঙ্ঘন | ২০০৯ সালের ১৩/এ ধারা |
| দুদকের পদক্ষেপ | নথি পর্যালোচনা, তদন্ত চলমান |
দুদকের তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি শুধু নীতি লঙ্ঘনের উদাহরণ নয়—বরং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বণ্টনে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সূত্র: দুদক সংবাদ সম্মেলন, রাজউকের নথিপত্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |